আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করুন

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২১, ২২:২৩

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশাসনের নবীন কর্মকর্তাদের সাধারণ জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আইন ও প্রশাসন কোর্স থেকে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে সময়োপযোগী উন্নয়ন প্রশাসন গড়ে তুলে এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আপনাদের নিবেদিত থাকতে হবে। আপনারা জনগণের পাশে থাকবেন এবং মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন।

 প্রধানমন্ত্রী গতকাল বুধবার বিসিএস প্রশাসন একাডেমির ১১৯ এবং ১২০তম আইন ও প্রশাসন প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। গণভবন থেকে তিনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শাহবাগস্থ বিসিএস প্রশিক্ষণ একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত মূল অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষকে আইনের সেবা দেওয়া, বিচার ব্যবস্থাটাকে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিচারের বাণী যেন নিভৃতে না কাঁদে। কারণ, আমি তার ভুক্তভোগী। ৭৫ এ জাতির পিতাকে হত্যার পর বিচার যাতে না হয় সেজন্য ইনডেমনিটি (অর্ডিন্যান্স জারি) দেওয়া হয়েছিল। অর্থাত্ বিচারের হাত থেকে তাদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। আমাদের কোনো অধিকার ছিল না একটা মামলা করার বা বিচার চাওয়ার।

 সাবেক সেনা শাসক জিয়াউর রহমানের আমলে বিচারাধীন এবং কারাগারে আটক যুদ্ধাপরাধীদের মুক্ত করে দেওয়াটা দেশের জন্য দুর্ভাগ্যজনক উল্লেখ করে তার সরকার সেই বিচার এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং অনেকেরই দণ্ড কার্যকর করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 শেখ হাসিনা নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা জনগণের সেবক হিসেবেই কাজ করবেন। কারণ, আজকে বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, এই বিশ্বায়নের যুগে আমাদেরকেও এগিয়ে যেতে হবে। তাল মিলিয়ে চলতে হবে। আমরা কিছুতেই পিছিয়ে থাকতে চাই না। আমি আশা করি, আপনারা আপনাদের প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান, মেধা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সম্মিলিতভাবে দেশের উন্নয়নকে আরো ত্বরান্বিত করবেন।

 প্রধানমন্ত্রী তার বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে নিজেকে জনগণের একজন সেবক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি মনে করি, আমার দায়িত্ব জনগণের সেবা করা। বাংলাদেশের সংবিধানের ২১ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীগণ সার্বক্ষণিক ভাবে জনগণকে সেবা প্রদানে বাধ্য। আমি আশা করি, আপনারা এই সাংবিধানিক দায়বদ্ধতার প্রতি বিশ্বস্ত থেকে জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগ করবেন।’

 প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০৭১ সালে স্বাধীনতার শতবর্ষ উদ্যাপন করব আমরা। সেই শতবর্ষ উদ্যাপনেও বাংলাদেশ কীভাবে এগিয়ে যাবে সেটাকে মাথায় রেখেই আমরা ২১০০ সাল পর্যন্ত ডেলটা প্ল্যান করে দিয়েছি। অর্থাত্ প্রজন্মের পর প্রজন্ম যেন এই ব-দ্বীপ অঞ্চলের মানুষগুলো সুন্দর জীবন পেতে পারে। আমাদের মতো কষ্ট ভোগ করতে না হয় সে জন্যই আমাদের এই পরিকল্পনা।’

 শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকারি কর্মচারীদের অন্যতম বড় প্রণোদনা হলো তাদের পদোন্নতি। ২০০৯ সাল হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে সকল ব্যাচকে তাদের প্রাপ্য পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে। জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাগণকে তাদের উদ্যমী কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যে আমরা একাধিক পুরস্কারের ব্যবস্থা করেছি। জাতীয় ও জেলা পর্যায়ে ‘জনপ্রশাসন পদক’ প্রদান করা হচ্ছে। ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেলে কর্মচারীদের উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহ-নির্মাণ-ঋণ, গাড়ী ক্রয়ের জন্য ঋণ প্রদান করা হচ্ছে এবং গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাসিক আর্থিক সুবিধা দিচ্ছি, এছাড়াও, ঢাকা শহরসহ অন্যান্য জেলা শহরে গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত নতুন আবাসন ব্যবস্থা। যাতে ভালোভাবে বসবাসের পাশাপাশি দেশের সেবায় আরো মনযোগী হতে পারেন এবং আত্মনিয়োগ করতে পারেন।’

 প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ এবং মেধা তালিকায় শীর্ষস্থান অধিকারকারীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন। বিসিএস প্রশিক্ষণ একাডেমির কর্মকাণ্ডের ওপর অনুষ্ঠানে একটি ভিডিও চিত্রও প্রদর্শিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ গণভবন প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন।