৫০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র আছে এমন মানুষের নাম ছিল প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া করোনা প্রণোদনার তালিকায়। এমনকি ঐ তালিকায় ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র আছে এমন লোকের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২৭৫ জন। ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় বাছাই করার কারণে এসব অনিয়ম ধরা পরেছে। অর্থ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার গতকাল বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান। অটোমেশনের নামে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে অর্থের অপচয় হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্বয়ংক্রিয়ভাবে উেস কর কর্তন ও মামলার জট কমানোসহ কর ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে ই-টিডিএস সিস্টেম চালু করেছে এনবিআর। গতকাল এই ডিজিটাল প্ল্যাটফরমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী। এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম এতে সভাপতিত্ব করেন।
উল্লেখ্য, করোনার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা করতে সারা দেশে ৫০ লাখ পরিবারকে দুই হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঈদ উত্সবকে কেন্দ্র করে দেওয়া ঐ তহবিলের সুবিধাভোগীর তালিকা নিয়ে সে সময় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। ঐ তালিকায় দরিদ্র নয় এমন বহু পরিবারের নাম চলে আসে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে সুবিধাভোগী বাছাইয়ে অনিয়মের বিভিন্ন তথ্য উঠে আসে। পরে এই তালিকা সংশোধন করা হয়। অর্থ সচিব গতকাল সেই অনিয়মের বিষয়ে জানান, এমনও লোকের নাম এসেছে তার ৫০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র আছে। তার নাম এসেছে দুই হাজার ৫০০ টাকা নেওয়ার জন্য। সিস্টেম যেহেতু উন্নত হয়েছে, সেজন্য আমরা চেক করেছি। যাদের ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র আছে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
ই-টিডিএস সিস্টেম চালুর বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, কর ব্যবস্থাপনায় উেস কর কর্তন, সরকারি কোষাগারে জমাদান ও রিপোর্টিংয়ে যুগান্তকরী ভূমিকা রাখবে ই-টিডিএস সিস্টেম। একই সঙ্গে মামলার জট কমে আসবে। এছাড়া রাজস্ব ফাঁকি কমবে এবং রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জানা যায়, আয়কর আইনে ৩৪টি ধারায় উেস কর কর্তন এবং ১৯টি ধারায় উেস কর সংগ্রহের বিধান রয়েছে। এসব ধারার অধীনে উেস কর কর্তন ও সংগ্রহের বিষয়টি ম্যানুয়ালি পরখ করা সময়সাপেক্ষ ও কষ্টসাধ্য। প্রতিটি উেস কর কর্তন করে কর্তৃপক্ষকে দুটি অর্ধবার্ষিক রিটার্ন এবং ২৪টি মাসিক বিবরণীসহ মোট ২৬টি রিপোর্ট দাখিল করতে হয়। এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ফলে উেস কর খাতে বিপুল পরিমাণ কাগজপত্র ও এর সঙ্গে সংযুক্ত চালান জমা দিতে দুর্ভোগ পোহাতে হবে না। পাশাপাশি বিভিন্ন গাণিতিক হিসাব পরিগণনায় বিভ্রান্তি দূর হবে। ই-টিডিএস সিস্টেমে উেস কর কর্তনকারীরা লগইন করে যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন ও এই চালান সিস্টেমের মাধ্যমে তাত্ক্ষণিক কর পরিশোধ করতে পারবেন। ২০২০ সালের মে মাসে ই-টিডিএস সিস্টেমের পরীক্ষামূলক কাজ শুরু হয়। গত বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে এনবিআরের বৃহত্ করদাতা ইউনিট ও কর অঞ্চল ১, ২ ও ৬-এ এ পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলেছে।
