আব্দুস সাত্তার
অটিজম শিশুদের সেবা দিয়ে আলোর পরশ ছড়িয়ে দিচ্ছেন সমাজসেবী শাহিন আকতার রেণী। তিনি অটিজম শিশুদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর উইমেন এন্ড চাইল্ড এসিসট্যান্স (এফডাব্লিউসিএ) এর মাধ্যমে অটিজম শিশুদের কল্যাণে একের পর এক কল্যাণমুখী কাজ করে চলেছেন। তিনি শত বাধার মুখেও শিশুদের সেবা থেকে পিছপা হননি। সমাজসেবার ব্রত নিয়ে জনগণের মাঝে হাজির হয়েছেন তিনি। সেই ২০১০ সালে রাজশাহী নগরে একটি অটিজম স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। বর্তমানে এ অটিজম স্কুলে ২৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এসব শিক্ষার্থীর অভিভাবক হিসেবে সমাজসেবী শাহিন আকতার রেণী সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে এফডাব্লিউসিএ এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। বিশ্বে বর্তমানে অটিজম শিশুদের মানসিকভাবে বেড়ে উঠা খুবই চ্যালেঞ্জ। আর এই চ্যালেঞ্জকে গ্রহণ করেন বিশিষ্ট সমাজসেবী শাহিন আকতার রেণী। তিনি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের সহধর্মিণী। তিনি নিজ সংসার পরিচালনা করার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন।
বর্তমান সরকার নারীদের অধিকার আদায়ে নানান পদক্ষেপ নিয়েছেন। যা অনেকাংশে বাস্তবায়ন চলছে। আর রাজশাহীসহ জেলার নারীদের অধিকার আদায়ে মাঠে ময়দানে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সমাজসেবী শাহিন আকতার রেণী। যেখানে নারীর অধিকার বিষয়ে জড়িত সেখানেই তৃণমূলের প্রাণ রেণী হাজির হন। রাজশাহী মহানগরীতে নারীদের অধিকার বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখানকার নারীরা ঘরে বাইরে সবখানেই নিজের অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকার সুযোগ পেয়েছে। একারণে শাহিন আকতার রেণীর অবদান কম নয়। রাজশাহী কোর্ট এলাকার গৃহবঁধূ আলতাফুন্নেসা বলেন, যখনই সমস্যায় পড়েছি, তখনই ছুটে গেছি রেণী ভাবীর কাছে। কোনদিন তার কাছ থেকে আবদার নিয়ে গিয়ে ফিরে আসিনি। শুধু আলতাফুন্নেসার কথা নয়, একথা আরো অনেকের। নগরীর মহিষবাথান এলাকার নার্গিস খাতুন বলেন, আমার বড় মেয়ে রাজশাহী কলেজে অনার্সে প্রথম বর্ষে ভর্তি করার জন্য টাকা যোগাড় করতে পারছিলাম না। ভাবী আমার মেয়ের ভর্তির কথায় টাকার ব্যবস্থা করে দিলেন। রেণী ভাবীকে ধন্যবাদ জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। লক্ষ্মীপুর এলাকার স্কুলের শিক্ষিকা নাহিদা খাতুন বলেন, আমার একটা পারিবারিক সমস্যা নিয়ে গিয়েছিলাম প্রিয় ভাবীর বাসায়। সমস্যাটি জানার পর সমাধান করে দেন। তিনি একজন সত্যিকার অর্থেই সমাজসেবী। আমরা সংরক্ষিত এমপি হিসেবে চাই রেণী ভাবীকে। নারী ও প্রতিবন্ধী বিষয়ক সংস্থা বিকাশের নির্বাহী পরিচালক বলেন, রেণী ভাবীর সহযোগিতায় এই সংস্থা এগিয়ে চলছে। শুধু আমাদের সংগঠন নয়, আরো অনেক সংগঠনেই রেণী ভাবীর সহযোগিতার ছোঁয়া রয়েছে।
শাহিন আকতার রেণী ভাবীর আরেকটি গুণ হলো প্রতিবন্ধীদের কোনো সমস্যা হলেই ছুটে যান তিনি। আর কোনো অনুষ্ঠানের কথা জানলেই তিনি আর না করেন না। প্রতিবন্ধীদের আর্থিকভাবে সহযোগিতার পাশাপাশি তাদের উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছেন। প্রতিবন্ধী শিশুদের মাতৃস্নেহে আবদ্ধ রাখেন সমাজসেবী শাহিন আকতার রেণী। প্রতিবন্ধী শিশুদের হুইল চেয়ার, হেয়ারিং এইড, সেলাই মেশিন, ক্র্যাচ, শিক্ষা উপকরণসহ বিভিন্ন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন শাহিন আকতার রেণী।
রাজশাহী নগরীর উপশহর এলাকার প্রয়াস প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও নারীর টান রয়েছে। প্রয়াসের পক্ষ থেকে সমাজসেবী শাহিন আকতার রেণীকে জাতীয় নির্বাহী প্রতিবন্ধী কমিটির সদস্য করা হয়েছে। এর ফলে শাহিন আকতার রেণী প্রতিবন্ধী শিশুদের উন্নয়নে আরো অবদান রেখে চলেছেন।
এসব বিষয়ে বিশিষ্ট সমাজসেবী শাহিন আকতার রেণী বলেন, আসলে সমাজের অসহায়দের পাশে সবারই দাঁড়ানো উচিত্। কারণ আমাদের সমাজে কারণে-অকারণে শিশুরাই অসহায়ের শিকার হয়। এসব অসহায় অটিজম শিশুদের পাশে থাকাটাই জরুরি মনে করি।
