ভাতিজাদের ফাঁসানোর জন্যই মেয়েকে খুন করেন বাবা: পুলিশ

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২১, ১৮:১৭

কুমিল্লায় সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে ভাতিজাদের ফাঁসানোর জন্যই নিজের মেয়ে মাদরাসাছাত্রীকে খুন করেন বাবা। এ ঘটনায় দুই ভাতিজাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন বাবা মো. সোলেমান মিয়া।

মেয়ে সালমা আক্তারকে (১৪) নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় পুলিশ সোলেমান মিয়ার উকিল শ্বশুর আব্দুর রহমান ও তার বন্ধু মো. খলিলকে গ্রেফতার করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। তারা পরিকল্পিতভাবে সালমাকে খুন করেছে বলে স্বীকার করেন এবং এ খুনের লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়।

গত ১ অক্টোবর রাতে জেলার চান্দিনা উপজেলার গল্লাই ইউনিয়নের বসন্তপুর ভূঁইয়াপাড়া গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় কুমিল্লা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) এম. তানভীর আহমেদ। 

তিনি জানান, গত ২ অক্টোবর ভোরে সোলেমান মিয়ার ছোট মেয়ে সালমা আক্তারকে প্রতিবেশীরা বাড়ির পাশে পুকুরে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে চান্দিনা থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুর থেকে মরদেহ তুলে মৃত সালমার গলায়, কাঁধে, পেটে, পায়ে ধারালো অস্ত্রে গুরুতর আঘাত দেখতে পায়। এ ঘটনায় সোলেমান তার আপন ভাতিজা শাহজালাল, শাহ কামালসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ নৃশংস হত্যার রহস্য উদঘাটনে ব্যাপক তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। তদন্তকালে ঘটনার দিন বাদী, সাক্ষী ও আসামিদের অবস্থান এবং বাদীর এজাহারের বক্তব্যের সাথে তথ্যের গরমিল পাওয়া যায়। এছাড়াও বাদীর মানী সাক্ষীদের কথাবার্তা ও ঘটনার রাতে তাদের অবস্থান সম্পর্কে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য প্রদান ও তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনায় গরমিল পরিলক্ষিত হলে বাদীর উকিল শ্বশুর প্রতিবেশী আব্দুর রহমান ও বাদীর বন্ধু মো. খলিলকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে। 

তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগীর বাবা মামলার বাদী সোলেমানের সঙ্গে তার ভাতিজা শাহজালাল ও শাহ কামালের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও মামলা মোকদ্দমা চলে আসছে। এরই প্রেক্ষিতে সোলেমান তার প্রতিপক্ষ ভাতিজা শাহজালাল, শাহ কামালসহ তাদের লোকজনকে হত্যা মামলা দিয়ে ফাঁসাতে এবং বিরোধীয় জায়গা দখল করার জন্য তার নিজের মেয়ে সালমা আক্তারকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এ ঘটনায় গ্রেফতার আব্দুর রহমান ও মো. খলিল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও তিনি জানান। 

তবে নিহত সালমার বাবা সোলেমান গ্রেফতার এখনো হয়নি। 

ইত্তেফাক/এএএম