আমাদের অধিকার

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২১, ২০:৫৬

বন্ধুরা,

 

কেমন আছ তোমরা সবাই? অনেকদিন পর স্কুল খুলেছে। পড়ালেখা নিয়ে তাই বেশ ব্যস্ত সময় কাটছে নিশ্চয়। তাহলে খুব বেশি কথা না বাড়িয়ে আসল কথায় আসি। কচি-কাঁচার আসরের পক্ষ থেকে আজ তোমাদের জানাতে এসেছি শিশুদের অধিকার বিষয়ে। উহুম, মৌলিক অধিকারের কথা বলছি না। খাবার, পোশাক, থাকার জায়গা বা ঘর, শিক্ষা, চিকিত্সা তো সব মানুষেরই মৌলিক অধিকার। তার মানে এই অধিকারগুলো তোমাদের জন্যও।

তবে এর বাইরেও বেশ কিছু অধিকার রয়েছে শিশুদের জন্য। জান কি, এখন শিশু অধিকার সপ্তাহ পালিত হচ্ছে? শিশুর অধিকার,  সুরক্ষা ও শিশুর বিকাশে প্রতি বছর অক্টোবরের চার থেকে দশ তারিখ পর্যন্ত সারা বিশ্বে শিশু অধিকার সপ্তাহ পালন করা হয়; আর চার অক্টোবর বিশ্ব শিশু দিবস। শিশু অধিকার সপ্তাহের কথা না হয় জানলাম, কিন্তু সেই অধিকারগুলো কী—এখন নিশ্চয় সেই প্রশ্ন মনে জেগেছে? বলছি শোন, ১৯২৪ সালে জেনেভায় এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মাধ্যমে শিশু অধিকার ঘোষণা করা হয়, এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৫৯ সালে শিশু অধিকার সনদ ঘোষণা করা হয় জাতিসংঘে। বাংলাদেশ সেই সনদে স্বাক্ষর করে। শিশু অধিকার সনদে ৫৪টি ধারা ও ১৩৭টি উপধারা রয়েছে। বর্তমান আইনে শিশু হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় ১৮ বছর পর্যন্ত।

তোমাদের চোখে পড়ার কথা। স্কুলে যাওয়ার সময় কিংবা বাবার সঙ্গে বিকেলে পার্কে বেড়াতে যাওয়ার সময়ের কথা মনে করে দেখ, রাস্তার বিভিন্ন দোকানে তোমাদের সমবয়সী কেউ কাজ করছে। শিশুদের দিয়ে এ রকম যেকোনো জায়গায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করানো শিশু অধিকারের বাইরে। টেলিভিশনে কখনো শিশু পাচারের খবর শুনেছ? দুষ্ট লোকেরা অনেক সময় শিশুদের ধরে বিদেশে বিক্রি করে দেয়। এটাও শিশু অধিকারের বাইরে। তোমরা যেমন স্কুলে গিয়ে পড়ালেখা কর, বাবা-মায়ের সঙ্গে মজার মজার খাবার খাও, একই ঘরে ঘুমাও, অসুখ হলে বাবা তোমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান; ঠিক না? এমনটা তো সব শিশুদের জন্যই হওয়া উচিত। তবেই তো শিশুদের বিকাশ ঘটবে সহজে। এই বিষয়টাকে সমান হওয়া বা সাম্যের অধিকার বলতে পার। মানে সব শিশুই সমান। কাউকে ছোট-বড় কিংবা ছেলে-মেয়ে ওরকম আলাদা করে দেখলে চলবে না। বুঝলে? তবে নিজেদের অধিকার নিয়ে নিজেরাও সচেতন হয়ে ওঠ, সেইসঙ্গে আশপাশে নিজের অধিকারের বাইরে থাকা শিশু বন্ধুদেরও সচেতন করে তোল।

 

ইতি

মুনতাসির সিয়াম