কাউনিয়ায় তিস্তা নদীর ভাঙনে বসতবাড়ি কৃষিজমি বিলীন

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২১, ২১:১৮

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের চরগনাই গ্রামে তিস্তা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়েছে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। গত কয়েক দিনের ভাঙনে স্থানীয়দের অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। হুমকিতে রয়েছে দুই শতাধিক পরিবার। তিস্তা পাড়ের বাসিন্দারা জানান, উপজেলার বালাপাড়া ও টেপামধুপুর ইউনিয়নে নদী তীরের ১০ গ্রামের একাংশ প্রায় বিলীন হতে চলেছে। ইতিমধ্যে নদীগর্ভে ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে অনেক পরিবার। উপজেলার চরগনাই গ্রামের বাসিন্দা আজিজার রহমান জানান, পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত কয়েক দিনে ভাঙনে বেশকিছু বসতবাড়ি, ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকিতে রয়েছে অনেক বসতবাড়ি, আবাদি জমি ও ফলদ-বনজ গাছ। চরগনাই গ্রামের বিধবা বুলবুলি বেগম (৫৫)। এক ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়িতে একটি ঘর তুলে বসবাস করছেন তিনি। কিন্তু তিস্তা নদী ভাঙতে ভাঙতে ঘরের কাছে চলে এসেছে। হয়তো কয়েক দিনের মধ্যে বাবার বসতভিটাও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। চর বিশ্বনাথ গ্রামের বাসিন্দা আয়েশা আক্তার বলেন, বাড়ির কাছে চলে এসেছে নদী। সব সময় আতঙ্কে থাকি, কোনো সময় ভেঙে যায়। আগে তিন বার বসতবাড়ি সরিয়ে নিয়েছি। এখন আবার সরাতে হবে। চরগনাই গ্রামের আবু বক্কর বলেন, উপজেলার বালাপাড়ার তিস্ত নদীর ভাঙন রোধে তালুক সাহাবাজ গ্রামের নদী পাড়ে বালুর ব্যাগ ফেলা হলেও এখানে ফেলা হচ্ছে না। সব সময় আতঙ্কে থাকি কোনো সময় সব নদীতে চলে যায়।

তালুক শাহাবাজের ক্ষীরোদ চন্দ্র শীল বলেন, এখানকার অধিকাংশ পরিবার একাধিকবার তিস্তা নদীর ভাঙনের শিকার হয়ে নিঃস্ব অবস্থায় অন্যের জমি ও বাঁধের ওপর বসবাস করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙন না ঠেকালে আজীবন রাস্তায় বাড়ি তুলে থাকতে হবে আমাদের।

টেপামধুপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম জানান, ভাঙনে অনেকের বসতভিটা ও আবাদি জমি নদীতে তলিয়ে গেছে। প্রতিদিনই নদীর পাড় ভাঙছে। এতে তীরবর্তী গ্রামের কয়েক শ ঘরবাড়ি ভাঙনের মুখে রয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে নদী শাসন ও ভাঙন রোধে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন। বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনছার আলী বলেন, ব্যক্তিগত তহবিল ও টিআর প্রকল্পের অর্থায়নে বাঁশ দিয়ে নদীর তীর ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হয়েছিল। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, উপজেলায় তিস্তা নদীর তীরবর্তী গ্রামে ভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে আমরা শুধু জিও ব্যাগ সরবরাহ করেছি। স্থানীয় লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমে ভাঙন রোধের চেষ্টা করছে।