গোপালগঞ্জে আগাম আমন ধানের ভালো ফলন হয়েছে। ফলে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে। একই সঙ্গে উচ্চমূল্যে ধানের খড় বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। গোপালগঞ্জ বিনা উপকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার গোপীনাথপুর, সুকতাইল, জালাবাদ ও কাশিয়ানী উপজেলার মহেশপুর, বেথুড়ি, ফুকরা ইউনিয়নে পাঁচ বছর ধরে এ ধানের আবাদ হয়ে আসছে। এ বছর জেলার ৩০০ কৃষক ১৫০ হেক্টর জমিতে বিনাধান-১৬ আবাদ করেছেন। প্রতি হেক্টরে এ জাতের ধান ছয় টন ফলেছে।
সূচিডাঙ্গা গ্রামের কৃষক সুজন বিশ্বাস বলেন, বিনাধান-১৬ জুলাই মাসে রোপণ করেছি। ১০০ দিনে এই ধান পেকেছে। আমরা এখন পাকা ধান কাটছি। প্রতি হেক্টরে এ জাতের ধান ছয় টন ফলন দিয়েছে। পাশাপাশি আমরা বেশি দামে খড় বিক্রি করতে পারছি। স্বল্প জীনকাল সম্পন্ন এ ধানের আবাদ করে আমরা একই জমিতে বছরে তিন-চারটি ফসল ফলিয়ে লাভবান হচ্ছি। একই গ্রামের কৃষক মাহাতাব উদ্দিন বলেন, প্রচলিত আমনের তুলনায় বিনাধান-১৬ দেড় মাস আগে পাকে। ফলন অনেক ভালো।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেবদাস মল্লিক বলেন, এ জাত গোপালগঞ্জ বিনা উপকেন্দ্র থেকে নিয়ে কৃষক পাঁচ বছর আগে আবাদ শুরু করে। তারা এ ধানের বীজ সংরক্ষণ করে প্রতি বছর ধানের আবাদ বাড়াচ্ছে। এতে উত্পাদন বাড়ছে। ফলে কৃষক লাভবান হচ্ছেন। গোপালগঞ্জ বিনা উপকেন্দ্রের ইনচার্জ ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম আকন্দ বলেন, কৃষিকে বাণিজ্যিকীকরণ করে কৃষককে লাভবান করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। সে লক্ষ্যেই আমরা কৃষকদের আমাদের উদ্ভাবিত নতুন বীজ, প্রযুক্তি, পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। এতে তারা কৃষি কাজ করে সফল হচ্ছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণের ডিডি ড. অরবিন্দু কুমার রায় বলেন, বিনাধান-১৬ আবাদ শেষে কৃষক এক জমিতে বছরে তিন-চারটি ফসল করছেন। বিনার শস্য বিন্যাস প্রদর্শনী সম্প্রসারিত হচ্ছে। এতে আমাদের কৃষি ও কৃষক সমৃদ্ধ হচ্ছেন। ফলে খাদ্য উত্পাদন বাড়ছে। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম বলেন, বিনা উদ্ভাবিত ফসলের জাত দেশ থেকে খাদ্য অভাব দূর করতে সক্ষম। আমরা সে লক্ষ্যেই কাজ করছি।
