তৃতীয়বারের মতো বৃহস্পতিবার সকালে করোনার টিকা নিয়ে রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার দূর্গম ৪ নম্বর বড়থলি ইউনিয়নে রওনা হয় বিলাইছড়ি উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের ছয় সদস্যের একটি টিম। কাপ্তাই পানিবিদ্যুত্ কন্দ্রের হেলিপ্যাড থেকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় তাঁরা সেখানে রওনা দেন। এছাড়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তিন জন মেডিক্যাল সদস্য রয়েছে এই টিমে। বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশ্মি চাকমা এই টিমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বিলাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এবার দুর্গম বড়থলি ইউনিয়নের রাইখ্যং লেক-সংলগ্ন পুকুরপাড়া এলাকায় গণটিকার আওতায় সিনোফার্মের প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রশ্মি চাকমা জানান, ‘আমরা ১ হাজার ৫০০ ডোজ টিকা নিয়ে যাচ্ছি। যথারীতি টিকাদানের পাশাপাশি মোবাইল মেডিক্যাল ক্যাম্পের আওতায় ঐ অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে। বরাবরের মতোই স্বাস্থ্য বিভাগকে সাহায্য করার জন্য রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে দূর্গম বড়থলি ইউনিয়নের বড়থলি পাড়ায় গত ১০ আগস্ট গণটিকার প্রথম ডোজ এবং ১৪ সেপ্টেম্বর গণটিকার দ্বিতীয় ডোজ প্রদান করা হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় সমগ্র ইউনিয়নকে টিকাদানের আওতায় আনার জন্য ইউনিয়নের অপর প্রান্ত অনিন্দ্য সুন্দর রাইখ্যং লেক-সংলগ্ন পুকুর পাড়ায় বৃহস্পতিবার গণটিকার প্রথম ডোজ প্রদান করব।’ তিনি এই টিকা কার্যক্রমে সহযোগিতা করার জন্য রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার এমপি, সেনাবাহিনী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, জেলা সিভিল সার্জন ও বিমান বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার সবচেয়ে দুর্গম ৪ নম্বর বড়থলি ইউনিয়নে বিলাইছড়ি উপজেলা থেকে ফারুয়া ইউনিয়ন হয়ে হেঁটে যেতে কমপক্ষে লাগবে চার দিন। আবার বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলার বগা লেক থেকে পায়ে হেঁটে যেতে লাগে দুই দিন।
