সাহেদ একজন প্রতারক সেটা জানা ছিল না

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২১, ২২:৪৫

করোনা টেস্টের নামে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় অন্তবর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) ডা. আবুল কালাম আজাদ। তিনি আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ গতকাল বৃহস্পতিবার এই জামিন মঞ্জুরের আদেশ দেন। এই মামলার অন্যতম আসামি রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের সঙ্গে তার পরিচয় কীভাবে বিচারকের এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক ডিজি আজাদ বলেন, রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার দিন সাহেদের সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয়। ঐ অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন আরো বড় বড় কর্মকর্তারা। সেখান থেকে সাহেদের সঙ্গে আমার পরিচয়। তিনি বলেন, আমি আগে থেকে জানতাম না যে সাহেদ একজন প্রতারক। স্যার (বিচারক) আমার ডায়াবেটিস রয়েছে। আমার জীবন তুচ্ছ করে মানুষের জন্য কাজ করেছি। আমি কোনো অপরাধ করিনি, আর ভবিষতেও করব না। আমি জামিন চাই।

লাইসেন্সের মেয়াদ না থাকার পরও করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার জন্য রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি করে ‘সরকারি অর্থ আত্মসাতের’ অভিযোগে সাহেদসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। এ মামলায় করোনার নমুনা পরীক্ষা ও চিকিত্সায় খরচ বাবদ মোট ৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আনা হয়েছে। ইতিমধ্যে মামলায় সাহেদ ও আজাদসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে দুদক।

সেই মামলায় গতকাল আত্মসমর্পণ করে জামিন চান আজাদ। শুনানির এক পর্যায়ে বিচারকের প্রশ্নের জবাবে সাবেক ডিজি বলেন, সারা পৃথিবীতে করোনার যে অবস্থা, সেই অবস্থায় সচিব মহোদয়ের নির্দেশে মানুষের জীবন বাঁচাতে এটা (রিজেন্টের সঙ্গে চুক্তি) করতে হয়েছিল। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সচিব মহোদয়ের সামনে (চুক্তি) স্বাক্ষর করা হয়েছিল। কিন্তু মানব সেবার নামে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করার জন্য টাকা নিচ্ছে রিজেন্ট হাসপাতাল এমনটা অভিযোগ পরে জানতে পারি। এরপর আমি সঙ্গে সঙ্গে ঐ দুটি শাখা (রিজেন্ট হাসপাতালের) বন্ধের নির্দেশ দেই। আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে আইনজীবী মাসুদ মজুমদার ও দুদকের পক্ষে মীর আহম্মেদ আলী সালাম জামিনের বিরোধিতা করে বক্তব্য রাখেন। শুনানি শেষে বিচারক ২ নভেম্বর পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুরের আদেশ দেন।