ঋণের টাকা জোগাড় করতে ইজিবাইক চালককে হত্যা করে মামা-ভাগনে

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২১, ২২:৪৬

আসামি রাকিবের দূর সম্পর্কের মামা ইলিয়াসের ব্যবসার জন্য একটি এনজিও থেকে লোন নেয়। কিন্তু লোনের টাকা জুয়া খেলে সব হারায় ইলিয়াস। লোনের টাকা জোগাড় করতে তারা দুজন পরিকল্পনা করে ইজিবাইক ছিনতাই করবে।  ছিনতাইয়ের ইজিবাইক বিক্রি করে অর্থ জোগাড় করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২০ সালের ২৭ মে সকাল ৮টার সময় তালের শাঁস কেনার কথা বলে ভিকটিম শাহাবুদ্দিনের ইজিবাইক ভাড়া করে তারা। কৌশলে ভিকটিমকে মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী থানার আড়িয়াল ইউনিয়নের উত্তর কুড়মিরা এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ভিকটিমকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ইলিয়াস ও রাকিব। তারপরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে দা দিয়ে গলা কাটে।

র্যাব জানায়, আসামিদের গ্রেফতারে র্যাব-১১-এর একটি দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। ২০২০ সালের ২৭ ডিসেম্বর র্যাব-১১-এর একটি দল ক্লু-লেস ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সহযোগী ও অন্যতম আসামি মো. ইলিয়াস শেখকে (৩২)  গ্রেফতার করে। এসময় তার কাছ থেকে দা, ভিকটিমের মোবাইল ফোন ও ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়। আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দেয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার মধ্যরাতে গাজীপুর কাপাসিয়া শালবন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামি মো. রাকিব (২৬)কে গ্রেফতার করা হয়। গতকাল দুপুরে রাজধানীর কাওরানবাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল তানভীর মাহমুদ পাশা এসব তথ্য জানান।

এর আগে, ২০২০ সালের ২৭ মে এই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে নিহতের বাবা মো. আবুল শেখ বাদী হয়ে টঙ্গিবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এই হত্যাকাণ্ডের পরে মুন্সীগঞ্জের নিহতের স্বজনরা ও এলাকাবাসী হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে জেলার বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন করে। এই ঘটনা স্থানীয় সব গণমাধ্যমে সংবাদ আকারে প্রকাশিত হয় ও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

তানভীর মাহমুদ বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর হত্যাকারী রাকিব  গ্রেফতার এড়ানোর জন্য গাজীপুরে আত্মগোপন করে। এই সময়ে সে ইজিবাইক চালক, রাজমিস্ত্রি, ট্রাক হেলপারসহ বিভিন্ন ধরনের পেশা বদল করে ও গাজীপুর জেলার কোনাবাড়ী, এনায়েতপুর, কাপাসিয়াসহ বিভিন্ন স্থান পরিবর্তন করে। আসামি রাকিব চলতি বছরের ১৪ জুলাই বিয়ে করে। সর্বশেষ সে স্ত্রীকে নিয়ে গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া থানার সূর্যনারায়ণপুরে শালবনের দুর্গম এলাকায় একটি ঘরে বসবাস করছিল।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে কোনো ক্লু ছিল না। কে বা কারা হত্যা করেছিল সে সময় জানা যায়নি। ক্লু-লেস হত্যাকাণ্ড হওয়ায় প্রথমে আসামিকে  গ্রেফতার করতে আমাদের সাত মাস সময় লেগেছে। আসামিকে গ্রেফতার করার পরে ক্লু পাই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল দুজন, ইলিয়াস শেখ ও মো. রাকিব। রাকিবের পরিবার ও বন্ধুবান্ধবের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ শুরু করি। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানতে পারি গাজীপুরে অবস্থান করছে রাকিব।