আগ্রহ বাড়ছে গ্রিনহাউজ পদ্ধতিতে চাষাবাদ

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২১, ২০:৩২

আবুল কাসেম ভূঁইয়া

 

চাষাবাদে বহু পদ্ধতির একটি গ্রিনহাউজ পদ্ধতি। উন্নত বিশ্বে এই পদ্ধতি অনেক আগে চালু হলেও আমাদের দেশে এই পদ্ধতি নতুন বলা যায়। গ্রিনহাউজ পদ্ধতি একটি উন্নত পদ্ধতি। চাষাবাদে অনেক সুবিধা থাকায় আমাদের দেশের কৃষকরা এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, অসময়েও সবজির যোগান বেশি রাখতে গ্রিনহাউজ পদ্ধতি ভালো ভূমিকা রাখতে পারে। শীত প্রধান দেশের জলবায়ু গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের গাছপালা ও শাকসবজি জন্মানোর উপযোগী নয়। তাই সেই সব দেশে গ্রিনহাউজ এর কৃত্রিম উষ্ণ পরিবেশে শাকসবজি এবং বিভিন্ন ফলের চাষ করা হয়। ভিতরের সবুজ গাছপালার কারণেই এর নাম গ্রিনহাউজ। সারা বছর ধরে উন্নতমানের উদ্ভিদ ফলনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করাই গ্রিনহাউজ প্রযুক্তির উদ্দেশ্য।

উন্নত দেশে গ্রিনহাউজের কারণে সারা বাছর ধরে ফল, সবজি এবং ফুলের যোগান অব্যাহত থাকে। মূলত এই পদ্ধতির চাষাবাদে লোহার কাঠামোর চারিদিকে এবং ছাদে স্বচ্ছ আবরণ থাকে। এর অবকাঠামো বানাতে খরচ বেশি হলেও একবার গ্রিনহাউজ বানালে তা ৮ থেকে ১০ বছর ধরে অনায়াসে চাষাবাদ করা যায়। গ্রিনহাউজে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো ঢুকতে পারে। আবার অতিরিক্ত উত্তাপ সবজির কোনো ক্ষতি করতে পারে না। ফলে গরমেও সহজেই সবজি চাষ করা যেতে পারে। এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে ভালোই লাভ হবে বলে বিশেজ্ঞদের অভিমত। এই কাঠামোয় আলো, তাপ, কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং জলীয় বাষ্প প্রভৃতি বিভিন্ন উপাদান যা উদ্ভিদের বৃদ্ধিকে প্রভাবিত করে তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আবদ্ধ অবস্থায় জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে গেলে উদ্ভিদের শ্বসন ও প্রস্বেদনের হার কমে যায়, ফলে উদ্ভিদের বৃদ্ধি থমকে যায়। এ অসুবিধার কথা মাথায় রেখে গ্রিনহাউজের ছাদে একাধিক জানালার ব্যবস্থা করা হয় যাতে অতিরিক্ত তাপ ও জলীয় বাষ্প বেরিয়ে যেতে পারে।

গ্রিনহাউজে উত্পাদিত শাকসবজির পুষ্টিগুণ প্রাকৃতিক পরিবেশে উত্পাদিত শাকসবজির মতো হলেও কীটনাশক ও অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে তুলনামূলক অনেক কম আসে বলে গ্রিনহাউজে উত্পাদিত শাকসবজি অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। গ্রিনহাউজে উত্পাদিত শাকসবজি প্রাকৃতিক উপায়ে উত্পাদিত শাকসবজির পরিপূরক হতে পারে। গ্রিনহাউজের প্রাথমিক অবকাঠামো তৈরির খরচ নির্ভর করে এর নির্মাণসামগ্রীর ওপর। গ্রিনহাউজ তৈরি করতে জিআইপাইপ, এসএসঅ্যাংগেল, ফাইবার গ্লাস দ্বারা আবদ্ধ পলিয়েস্টার, কাচ, অ্যাক্রিলিক প্রভৃতি সামগ্রীর প্রয়োজন হয়। দামি সামগ্রী দিয়ে তৈরি করা গ্রিনহাউজ ব্যয় সাপেক্ষ। তবে কৃষকদের আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে কম খরচে কাঠের তৈরি কাঠামো এবং পরীক্ষিত গ্রিনহাউজ ব্যবহার করা যেতে পারে। বর্তমানে আমাদের দেশে সীমিত পর্যায়ে গ্রিনহাউজ পদ্ধতি ব্যবহূত হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ বাড়ানো গেলে কৃষকরা সারা বছর সবজি উত্পাদন করতে পারবে।