মুলাদী (বরিশাল) সংবাদদাতা
মুলাদীতে জয়ন্তী ও আড়িয়াল খাঁ নদে মা-ইলিশ নিধন করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মত্স্য দপ্তর ইলিশ রক্ষায় অভিযান চালালেও জেলেদের থামানো যাচ্ছে না। কৌশল পালটে জেলেরা উপজেলার জয়ন্তী ও আড়িয়াল খাঁ নদে মা-ইলিশ নিধন করে চলেছেন।
৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। এই সময়ে জেলেদের জন্য চাল দেওয়া হয়। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা ইতিমধ্যে জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণ করছেন। কিন্তু শুক্রবার উপজেলার জয়ন্তী ও আড়িয়াল খাঁ নদে সহস্রাধিক নৌকায় জেলেদের মাছ ধরতে দেখা গেছে। আর ইলিশ নিধনে পেশাজীবী জেলেদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন মৌসুমি জেলেরা।
উপজেলার ষোলঘর গ্রামের রিয়াজুল ইসলাম জানান, ইলিশ ধরা, বিক্রি ও পরিবহন নিষিদ্ধ। কিন্তু জেলেরা সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জয়ন্তী নদীতে মাছ ধরছেন। জেলেদের সহযোগিতা করছেন তাদের পরিবারের নারী ও শিশু সদস্যরা। এসব নারী ও শিশু নদীর পাড়ে অবস্থান করেন। মাছ নিয়ে আসলে তারা সেগুলো নিয়ে দ্রুত সরে যান। প্রত্যেকের বাড়িতে দুই/তিনটি করে ডিপ ফ্রিজ রয়েছে। পরে এসব মাছ চড়ামূল্যে বিক্রি করা হয়। ফ্রিজে জায়গা না থাকলে নারী ও শিশুরা এলাকার অন্য বাড়ি গিয়েও মাছ বিক্রি করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে জানান, অভিযানের ট্রলার চালকদের সঙ্গে কতিপয় জেলে ও স্থানীয় নেতাদের আঁতাত রয়েছে। প্রশাসন কোথাও অভিযানে বের হলেই ট্রলার চালকরা মুঠোফোনে বিষয়টি জানিয়ে দেয়। তাই তারা সহজেই পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। যেসব জেলের সঙ্গে যোগাযোগ হয় না, তাদের দুই/এক জন আটক হয়।
চরকালেখান কলেজের শিক্ষার্থী রবিউল জানান, প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞার সময়ে বিভিন্ন পেশার মানুষ মাছ ধরার কাজে যুক্ত হয়। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে জেলেরা মাছ ধরতে যান। কিছু শিক্ষার্থী টাকার প্রয়োজনে জেলেদের মাছ ধরার কাজে সময় দেয়।
উপজেলার সফিপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু মুছা হিমু মুন্সী বলেন, সরকার জেলেদের চাল দিচ্ছে। এরপরও জেলেদের নদীতে ইলিশ নিধনের বিষয়টি দুঃখজনক।
উপজেলার মত্স্য কর্মকর্তা সুব্রত গোস্বামী জানান, গত ৪ অক্টোবর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ নিধনের অভিযোগে ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে দুই জনকে কারাদন্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু জেলেদের থামানো যাচ্ছে না। তারা নৌকায় অস্থায়ী ইঞ্জিন লাগিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান।
