নিষিদ্ধ-ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের নারী ইউনিট গঠন করা হয়েছে। তাদের বেশির ভাগ অনলাইনে যুক্ত। অনলাইনে ভুয়া ফেসবুক একাউন্ট ও টেলিগ্রাম অ্যাপসের মাধ্যমে ছদ্মনামে তারা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রচারণায় নারীদের মগজ এমনভাবে ধোলাই করা হচ্ছে যে তারা কথিত জিহাদে গিয়ে ‘শহিদ হওয়ার জন্য’ মরিয়া হয়ে উঠছে। বিষয়টি তারা তাদের নিকট আত্মীয় যেমন মা, বাবা, স্বামী ও সন্তানদের সঙ্গেও শেয়ার করছে না। শুধু অনলাইন প্ল্যাটফরমে তারা তাদের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে।
আনসার আল ইসলামের নারী ইউনিটের সদস্যসংখ্যা কত—এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইমের (সিটিটিসি) প্রধান আসাদুজ্জামান বলেন, নারী জঙ্গিদের নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। এর আগে নিষিদ্ধ-ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) নারী ইউনিটের কিছু সদস্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে। ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সারা দেশে জেএমবির ৫২ জন নারী বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার হয়।
পারিবারিকভাবে বিয়ের মাধ্যমে জঙ্গি সংগঠনগুলো নারীদের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। একজন দাওয়াতি সদস্য অন্য জেলায় দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করার সময় বিয়ে করে তাদের নারী ইউনিটের সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি করত। তবে আনসার আল ইসলামের নারী ইউনিটের খোঁজখবর নিয়ে একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, এদের জঙ্গি কার্যক্রমের নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ ভিন্ন। অন্য জঙ্গি সংগঠনগুলোর নারী ইউনিটের কার্যক্রমের সঙ্গে এদের কোনো মিল নেই।
গত ২৬ আগস্ট সিটিটিসি রাজধানীর বাড্ডা এলাকা থেকে জোবায়দা সিদ্দিকা নাবিলা নামে এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়। এটি ছিল আনসার আল ইসলামের গ্রেফতারকৃত প্রথম নারী সদস্য। পাঁচ দিনের হেফাজতে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার তথ্য পান তদন্তকারীরা।
সিটিটিসির জিজ্ঞাসাবাদে নাবিলা জানান, তিনি ২০২০ সালের প্রথম দিকে ফেসবুকে আনসার আল ইসলামের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ ‘তিতুমীর মিডিয়া’র খোঁজ পান। তখন তিনি এই পেজে যুক্ত হয়ে আনসার আল ইসলামের বিভিন্ন উগ্রবাদী ভিডিও, অডিও ও লেখা পড়তে শুরু করেন। পরে তিতুমীর মিডিয়ার পেজের অ্যাডমিনের মাধ্যমে অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ঢুকতে শুরু করেন। মূলত এই সময় থেকে তিনি উগ্রবাদী মতাদর্শ নিজে কঠোরভাবে অনুশীলন করতে থাকেন।
