বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সরকার যদি কোনো কথা না শোনে তা হলে রাজপথেই হবে চূড়ান্ত ফয়সালা। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
অসুস্থতা কাটিয়ে সাড়ে ছয় মাস পর গত বুধবার বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বে ফিরেছেন রিজভী। তারপর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকালই প্রথম সংবাদ সম্মেলনে এলেন তিনি। রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের একদিন আগে বলেছেন, আগামী নির্বাচনে বর্তমান সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না। দেশে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ হলেই কেবল নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হবে। এই লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি সবাইকে নিয়ে সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন। নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে সংশয়ের কোনো সুযোগ নেই। রিজভী বলেন, ওবায়দুল কাদের তার বক্তব্যে স্বীকার করে নিলেন তাদের অধীনে অতীতের সব নির্বাচনে সরকার হস্তক্ষেপ করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে রাতে ভোটের জনক হলো আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের অধীনে যত নির্বাচন হয়েছে, সব নির্বাচন হয়েছে ফেনী স্টাইলে। কেন্দ্র দখল করে জালভোটের উত্সব করে আওয়ামী লীগ, দিনের ভোট রাতে করে আওয়ামী লীগ, বিনাভোটে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ। এখন বাংলাদেশ থেকে সুষ্ঠু নির্বাচন নির্বাসনে পাঠাতে সক্ষম হয়েছে তারা। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করে রিজভী বলেন, বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হলে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকার লাগবে। আইন করে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। ভোটারদের আস্থা ফেরাতে হলে, নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হলে আওয়ামী লীগ সরকারকে বিতাড়িত করতে হবে। পরিষ্কার করে বলতে চাই নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া আগামীতে কোনো জাতীয় নির্বাচন হবে না, জনগণ হতে দেবে না। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিকে সরকার ফোকলা করে ফেলেছে। দুর্নীতি লুটপাটে দেশ ও জনগণকে পথে বসিয়ে দিয়েছে তারা। ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাজীব আহসান ও বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলের মুক্তির দাবি জানান রিজভী। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা আসাদুল করিম শাহিন, আমিনুল ইসলাম, মত্স্যজীবী দলের আবদুর রহিম প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
