একাধিক নাটক, টেলিছবি ও বিজ্ঞাপনের কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর। পাশাপাশি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার প্রথম চলচ্চিত্র। নিজের অভিনয় ব্যস্ততাসহ ইন্ডাস্ট্রির সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে তিনি কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল
বর্তমানে কোন কাজগুলো নিয়ে ব্যস্ত আছেন?
সম্প্রতি ‘ফ্রম বাংলাদেশ’ ছবিটির কাজ শেষ করলাম। এখন ধারাবাহিক নাটক ‘শান্তি মলম ১০ টাকা’র শুটিংয়ে কক্সবাজার আছি। এই ধারাবাহিকটি ছাড়া এখানে আরো দুটি একক নাটকের শুটিং করব। এছাড়া বেশ কয়েকটি নাটক ও টেলিছবির কাজ হাতে রয়েছে।
আপনার প্রথম ছবিটি কবে দর্শকরা দেখতে পাবেন?
দেখুন, আমি নিজেও ছবিটি মুক্তির অপেক্ষায় আছি। কিন্তু করোনার কারণে ছবিটির কাজ শেষ করতে বিলম্ব হয়েছে। আশা করছি বছরের শেষদিকে হয়তো ছবিটি মুক্তি পাবে।
অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রীকে ওয়েব সিরিজে দেখা মিললেও দর্শকরা এখনো আপনাকে দেখতে পায়নি। এই মাধ্যমটিতে ঊর্মিলার দেখা কবে মিলবে?
ওটিটি নিয়ে আমিও আশাবাদী। এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি ভালো গল্প হাতে পেয়েছি। শিগগিরই ওটিটিতে কাজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো।
ওটিটি আসায় হিরো-হিরোইনের বাইরে গল্পকে প্রধান্য দিয়ে নির্মাণ বাড়ছে। এটাকে দর্শক চাহিদা নাকি পট পরিবর্তন বলবেন?
অবশ্যই কাজের পট পরিবর্তন হচ্ছে। তাছাড়া দর্শক চাহিদা বিবেচনা করলেও দেখবেন তারা অভিনয় নির্ভর কাজগুলোই বেশি দেখতে পছন্দ করেন। তাছাড়া আমাদের ইন্ডাস্ট্রি যেভাবে অভিনেতা-অভিনেত্রী নির্ভর হচ্ছে, সেখান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য হয়তো এই পরিবর্তন হচ্ছে বা পরিবর্তনটা দরকার আছে।
এখন ভিউ গুণে শিল্পী মূল্যায়ন ও কাজের মান নির্ধারণ করা হচ্ছে। এই চর্চাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
এটাকে ভালোভাবে দেখার কিছু নেই। ভিউ চর্চা ভালো কাজের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলছে।
একটি নাটকে একাধিক আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার আমাদের ভাষা সম্পর্কে মানুষকে ভুল বার্তা দিচ্ছে না?
হ্যাঁ, অবশ্যই এতে ভুল বার্তা পৌঁছাচ্ছে মানুষের কাছে। তবে এ ক্ষেত্রে একজন অভিনেতা বা অভিনেত্রীর চেয়ে নির্মাতার দায়টা বেশি বলে আমার মনে হয়। নির্মাতা একজনকে কাস্ট করলেন একটি অঞ্চলের ভাষায় অভিনয় করানোর জন্য, কিন্তু তিনি সেটা পারছেন না বলে অন্য অঞ্চলের ভাষা চালিয়ে দিচ্ছেন, এটা অত্যন্ত নেতিবাচক একটি বিষয়। এই জায়গায় আমার মনে হয় শিল্পী-নির্মাতা দু-পক্ষেরই সচেতন হওয়া জরুরি।
বর্তমান নাটকগুলো সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সামাজিক বার্তা দিতে পারছে বলে মনে করছেন?
এখানকার বেশিরভাগ নাটকেই সামাজিক বার্তা থাকে। শিল্পীরাও সংলাপ বলা থেকে শুরু করে স্ক্রিপ্ট, পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতার বিষয়টি মাথায় রেখেই কাজ করেন। আমরা সবসময়ই চেষ্টা করি আমাদের কাজ দিয়ে যেন সমাজে নেতিবাচক কোনো প্রভাব না পড়ে। তবে নতুনরা হয়তো না বুঝে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে একটু দূরে সরে যায়। এক সময় হয়তো এটাও ঠিক হয়ে যাবে।
চলচ্চিত্র নিয়ে ঊর্মিলার পরিকল্পনা কী?
দেখুন, সব শিল্পীর ইচ্ছে থাকে বড়পর্দায় কাজ করার। চলচ্চিত্রে কাজের জন্য আমি প্রস্তুত। গতানুগতিক ধারার বাইরের গল্পের ছবিতে কাজ করতে চাই। এই ধরনের গল্প নিয়ে আমাদের কাজ কম হচ্ছে। তাই সব ধরনের শিল্পীর চলচ্চিত্রে কাজের সুযোগ হচ্ছে না।
