মেশিনপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে
মো. আমিরুজ্জামান, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা
নীলফামারীর সৈয়দপুরে দেশের একমাত্র রেলওয়ে সেতু কারখানায় ছয় বছর ধরে উত্পাদন বন্ধ রয়েছে। খোলা আকাশের নিচে ইয়ার্ড জুড়ে অযত্নে পড়ে আছে লোহার মালামাল। নষ্ট হয়ে গেছে মূল্যবান মেশিনপত্র। এমনটি জানিয়েছে রেলওয়ের একটি সূত্র।
সূত্র জানায়, ১৮৫৭ সালে রেলওয়ে কারখানা গড়ে ওঠে। এরপর কারখানার পাশেই ১৮৬৫ সালে ১৮ একর ভূমিতে রেলওয়ে সেতু কারখানা গড়ে তোলা হয়। রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের সব স্টেশনের প্ল্যাটফরম শেডের মালামাল, রেললাইনের পয়েন্ট অ্যান্ট ক্রোসিং, ব্রিজ গার্ডার, ট্রলি ও মোটর ট্রলি মেরামত ও তৈরি, মোটর গার্ডার, পানির ট্যাংক, ফুট ওভারব্রিজের মালামাল, ট্যাংক স্টেজিংসহ ২৫ ধরনের যন্ত্রাংশ তৈরি হতো এই কারখানায়। কারখানাটিতে রয়েছে মেশিন শপ, পয়েন্টস অ্যান্ড ক্রোসিং শপ ও গাডার ইয়ার্ড শপ নামে তিনটি উপ-কারখানা। ১৯৯১ সালে বাধ্যতামূলক গোল্ডেন হ্যান্ডশেক ও নিয়মিত অবসরের কারণে ১২৭ মঞ্জুরীকৃত পদের বিপরীতে এই কারখানায় এখন কর্মরত রয়েছেন মাত্র ছয় জন। এদের মধ্যে দুই জন যাবেন অবসরে। বাকি এক জন প্রেষণে পাকশিতে, এক জন সহকারী সেতু প্রকৌশলী, এক জন স্টোরকিপার ও এক জন কর্মচারী।
সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্ল্যাটফরম শেড বা নকশাঘরটি তালাবদ্ধ। ভেতরে আবর্জনার স্তূপ। পাশে মেশিন শেডটির চিত্র একই। ইয়ার্ড জুড়ে জঙ্গল ও বড় বড় আগাছা। খোলা আকাশের নিচে অযত্নে মাটিতে পড়ে রয়েছে অ্যাঙ্গেল রড, স্কয়ার রড, কভার প্লেট, মিটার ও ব্রড গেজ লাইনের সেতুর স্পেয়ার গার্ডার। অন্য পাশে তিস্তা ও পাকশী হার্ডিঞ্জ সেতুর পরিত্যক্ত লোহা-লক্কড়, রেললাইন, একটি বিকল স্টিম ক্রেনসহ বিভিন্ন ধরনের লোহার মালামাল মাটির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। মাটির নিচে চাপা পড়েছে ফ্রাঞ্চ প্লেট ও কভার প্লেট। এসব যন্ত্রাংশ ও মেশিনের আনুমানিক বাজারমূল্য ৮০০ কোটি টাকা।
সহকারী সেতু প্রকৌশলী জুয়েল মিঞা জানান, জনবল ও কাঁচামালের সংকটে ছয় বছর ধরে কারখানাটির উত্পাদন বন্ধ রয়েছে। যেসব মেশিন নষ্ট হয়ে গেছে, তা মেরামত সম্ভব নয়। এসব কিনতে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন। তাই উত্পাদন বন্ধ রয়েছে।
