সিন্ডিকেট থেকে প্রান্তিক পোলট্রি শিল্প রক্ষার আহ্বান

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২১, ২১:৪৫

জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নে ১১ দফা দাবি

ইত্তেফাক রিপোর্ট

দেশের সিংহ ভাগ মাংসের চাহিদা পূরণ করছে পোলট্রি শিল্প। এ শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় সোয়া কোটি মানুষ নিয়োজিত। কিন্তু এ শিল্পের অন্যতম কাঁচামাল সয়ামিলের দাম সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে বাঁচার দামও বেড়েছে কয়েক গুণ। কিন্তু ডিম ও মাংসের দাম খামারি পর্যায়ে সেভাবে বাড়েনি। এ কারণে দেশের লাখ লাখ প্রান্তিক খামারিরা কোটি কোটি টাকা লোকসানে পড়েছেন। এর থেকে মুক্তি পেতে সরকারের কাছে ১১টি জাতীয় দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত খামারিরা। গতকাল শনিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনস্থ ইকোনমিক রিপোটার্স ফোরামের (ইআরএফ) হলরুমে বাংলাদেশ এসএমই ফোরামের সহযোগিতায় ও বাংলাদেশ পোলট্রি শিল্প ফোরাম আয়োজিত প্রান্তিক খামারি সভায় পোলট্রি শিল্পের উদ্যোক্তারা ১১ দফা জাতীয় দাবি জানান।

বাংলাদেশ পোলট্রি শিল্প ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা এবং বাংলাদেশ এসএমই ফোরাম-এর সভাপতি চাষী মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ সরকারে অতিরিক্ত সচিব কৃষিবিদ ড. শেখ মহ. রেজাউল ইসলাম, প্রধান বক্তা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখ্য বিজ্ঞানী ড. মো. লতিফুল বারী এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলাম। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত  ক্ষতিগ্রস্ত খামারি এতে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশের পোলট্রি শিল্প সম্ভাবনাময় একটি খাত। এ খাতের মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষের মাংসের জোগান দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু যারা এ খাতের পেছনে থেকে কাজটি করে যাচ্ছেন, এখন তারাই চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। এমনকি লোকসান দিতে দিতে অনেক উদ্যোক্তা খামার বন্ধ করে বিপথে চলে যাচ্ছেন। বক্তারা বলেন, অতি দ্রুত লোকসান কমানোর পাশাপাশি এ খাতের উন্নয়নে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। একই সঙ্গে সুস্থ্য ও সুন্দর ব্যবস্থাপনার জন্য এ খাতের জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সভায় উত্থাপিত ১১টি দাবি হলো—পোলট্রি ফিড ও বাঁচার অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি বন্ধ করতে হবে। উত্পাদিত মুরগি ও তার ডিমের মূল্য নির্ধারণে খামারিদের সুযোগ দিতে হবে। সহজ শর্তে ব্যাংক লোন ও প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে। পোলট্রি শিল্পের কাঁচামাল, ওষুধ, ভ্যাকসিন এবং খামারিদের ভ্যাট/ট্যাক্স মওকুফ করতে হবে। পোলট্রি বান্ধব বাজাটে ও এ খাতের উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে। এ শিল্পের অন্যতম কাঁচামাল সয়ামিল রপ্তানি বন্ধ করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি নীতিমাল প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন করতে হবে। এ খাতকে সিন্ডিকেট মুক্ত করতে হবে। খামারিদের আর্থিক ও জীবনের নিরাপত্তায় সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ নির্দেশনা দিতে হবে। দেশের আট বিভাগে পোলট্রি শিল্প পার্ক প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং খামারিদের জন্য বিশেষ বীমা চালু করতে হবে।