ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বিরুদ্ধে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে দুর্গাপূজা উদ্যাপনের অনুমতি না দেওয়ায় মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও মাঠের উদ্দেশ্যে পদযাত্রা করেছে সম্মিলিত হিন্দু সংগঠন। গতকাল বিকালে শাহবাগে বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংগঠনের আহ্বায়ক কপিল কৃষ্ণ মন্ডলের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব সুমন কুমার রায়ের সঞ্চালনায় পথসভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের মুখপাত্র পলাশ কান্তি দে। আরো বক্তব্য রাখেন অখিল মন্ডল, সাজেন মিশ্র, সুজন ঘোষ ও সৈকত কুন্ডসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, ধানমন্ডি, কলাবাগান, হাজারীবাগ, মোহাম্মদপুর, নিউমার্কেট ও আশপাশের এলাকার প্রায় ৬০ হাজার হিন্দু ধর্মাবলম্বী বাস করেন। এ জন্য কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠেই ২০০৭ সাল থেকে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্যাপন করা হচ্ছে। অন্যান্য বারের মতো গত ২৬ আগস্ট পূজা উদ্যাপনের জন্য আমরা সিটি করপোরেশনের মেয়র বরাবর লিখিত আবেদন করি। কিন্তু এখনো কোনো সাড়া পাইনি। যা স্বাধীন দেশে ধর্ম পালনে বাধা বলে মনে করি। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অনুমতিপত্র থাকার পরও সিটি করপোরেশনের আচরণ আমাদের ব্যথিত করেছে।’ আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। তারা আরো বলেন, সরকার অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধারণ করলেও সিটি করপোরেশনের আচরণ সাম্প্রদায়িক। আমরা মেয়রের এমন আচরণের প্রতিবাদের ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। এই আচরণের কারণে ২ কোটি হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আজ অস্থিরতা বিরাজ করছে। তারা উদ্বিগ্ন এ বিষয় নিয়ে। আজকের মধ্যে আমরা অনুমতি প্রদান করে পূজা উদ্যাপন করার ব্যবস্থা করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বক্তব্য: দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) গত শুক্রবার রাতে এক লিখিত বক্তব্যে পূজা উদ্যাপনের অনুমতি প্রদান না করার বিষয়ে জানায়। গতকাল শনিবারও তারা অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেনি।
সিটি করপোরেশন জানায়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অনুমতিপত্র থাকার পরেও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অসহযোগিতার কারণে পূজা উদ্যাপন করতে পারছেন না বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অভিযোগ করেছেন। কিন্তু স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে পূজা উদ্যাপন কমিটি কর্তৃক পূজা উদ্যাপনকালে কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠ ও মাঠের স্থাপনাসমূহের কোনো প্রকার ক্ষয়ক্ষতি/বিনষ্ট না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে, এমন শর্তসাপেক্ষে পূজা আয়োজনের অনুমতি প্রদান করার বিষয়টি তারা উল্লেখ করেননি। এছাড়া মন্ত্রণালয় প্রদত্ত ‘শর্তসাপেক্ষ অনুমতি প্রদান’ করার জন্য ডিএসসিসি’র কাছে যে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে, এতে পূজা আয়োজনের ফলে কলাবাগান মাঠ কিংবা প্রকল্প এলাকায় কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হলে তার যথার্থ ক্ষতিপূরণ/জরিমানা দেওয়া হবে এমন নিশ্চয়তা প্রদানপূর্বক কমিটির পক্ষ হতে এখন পর্যন্ত ডিএসসিসির কাছে কোনো আবেদনও করা হয়নি।
সিটি করপোরেশন জানায়, কলাবাগান মাঠ ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় ২০১৮ সাল থেকে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আওতায় কলাবাগান মাঠের উন্নয়ন, মাঠ হতে ধানমন্ডি-৩২ এবং মাঠ হতে ধানমন্ডি হ্রদের পানসি রেস্তোরাঁ পর্যন্ত পথচারীদের হাঁটার পথ (ফুটপাত), মাঠের চারপাশে নর্দমা (ড্রেনেজ) ব্যবস্থা ও হ্রদের পাড়ে হাঁটার পথ (ওয়াকওয়ে) নির্মাণ, মাঠে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলার জন্য সুবিধা সংবলিত অনুষঙ্গ সৃষ্টি এবং অনুশীলনের জন্য জাল (নেট) স্থাপন ইত্যাদি বহুবিধ কর্মযজ্ঞ চলমান।
২০১৯ সালে কলাবাগান মাঠে বিশেষ বিবেচনায় মাঠের ক্ষয়ক্ষতি না করা এবং ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হলে তার যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান করার শর্তে দুর্গাপূজার অনুমতি দেওয়া হয়। সামগ্রিকভাবে সে সময় প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হলে তার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে মর্মে মুচলেকা হলেও বস্তুত কমিটি কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে প্রদান করেনি।
