কর্মীরা। এদের মধ্যে তিন জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এরা হলো, সায়লা বিবি, তার আড়াই বছরের সন্তান রিপন এবং সায়লার ভাগিনা চার বছরের আরমান। উদ্ধার হওয়া বাকি দুই শিশুর পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এক নারীসহ আরো এক শিশু নিখোঁজ ছিল। আজ সোমবার থেকে আবার উদ্ধার অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।
তলিয়ে যাওয়া নারী ও শিশুরা হলো, সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জের গজারিয়া গ্রামের শফিকুলের স্ত্রী মোসা. রূপায়ন, তার ছেলে আরমান, মেয়ে জেসমিন, রূপায়নের বোন কাবিলের স্ত্রী মোসা. সায়লা বিবি, সায়লার আড়াই বছরের ছেলে রিপন এবং আরমিনা (৮) ও ফারহান মনি (৫) নামে দুই শিশু। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা মো. রায়হান জানিয়েছেন, তলিয়ে যাওয়া সাত জনের মধ্যে পাঁচ জন একই পরিবারের।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ভোরে একটি ট্রলারে তুরাগ নদের উত্তরপাশে আমিনবাজার থেকে গাবতলী ল্যান্ডিং স্টেশনের দিকে যাচ্ছিলেন ১৮ জন শ্রমিক। তাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। ঐ নারীরা মূলত ল্যান্ডিং স্টেশনের পাশে কয়লার ডিপোতে কাজ করতেন। কাজের সময় সন্তানদের পাশে বসিয়ে রাখতেন তারা। তুরাগ নদ পারাপারের সময় হঠাত্ একটি বালুবাহী বাল্কহেডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ট্রলারটি ডুবে যায়। এ সময় কয়েক জন সাঁতরে তীরে উঠে আসে। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়।
এদিকে ট্রলার ডুবির পরে তুরাগ পাড়ে কান্নার রোল পড়ে যায়। সাঁতরে তীরে আসা স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে তুরাগ পাড়ের বাতাস। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় জমান অন্য স্বজনরা। এক পর্যায়ে ডুবুরিরা লাশের সন্ধান পেলে কান্না আরো বাড়তে থাকে। অনেকে স্বজনের অপেক্ষায় নদীর পানে তাকিয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না করতে থাকেন।
উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের ডুবুরিরা। পর্যায়ক্রমে উদ্ধার করা হয় চার শিশু ও এক নারীর লাশ। এ ঘটনায় বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম-পরিচালক ফজলুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ডুবে যাওয়া ট্রলারে ধাক্কা দেওয়া বালুবাহী বাল্কহেডটি আটক করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে নৌ পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএ।
ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল হালিম ও সদর দপ্তরের ডিউটি অফিসার দেওয়ান আজাদ জানান, আমরা সকাল ৮টার দিকে খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করি। এখন পর্যন্ত চার শিশু ও এক নারীসহ মোট পাঁচ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। ট্রলারটির অবস্থান শনাক্ত করা গেছে। নদীতে অনেক স্রোত থাকায় উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে, তবে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। নিখোঁজ দুই জনকে না পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলবে।
ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহেল কাফি জানান, ঘটনাস্থলে সাভার থানা ও নৌ পুলিশ সদস্যরা রয়েছেন। তবে এখনো বালুভর্তি বাল্কহেড আটক করা সম্ভব হয়নি। সাভার মডেল থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
