ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের সেবায় যুক্ত হলো জাতিসংঘ

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২১, ২২:৫১

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের সেবায় জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়ে গতকাল শনিবার বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীন এবং জাতিসংঘের পক্ষে ইউএনএইচসিআরর বাংলাদেশস্থ প্রতিনিধি জোহানস ভ্যান ডার ক্ল এই এমওইউতে সই করেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান ও মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকায় ইউএনএইচসিআর এর কার্যালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক কার্যক্রমে জড়িত জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর পক্ষে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর কর্তৃক স্বাক্ষরিত এই এমওইউর মাধ্যমে দ্বীপটিতে রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক কার্যক্রমের সুরক্ষা ও নীতিমালার একটি সর্বজনীন কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হলো। এর মাধ্যমে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের ও জনগণের উদারতা ও সহায়তা আবারও প্রতিফলিত হয়েছে। পাশাপাশি এদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ৯ লাখ রোহিঙ্গার মানবিক সহায়তায় বাংলাদেশের নেতৃত্বের জন্য জাতিসংঘের সহায়তা চালু রাখার প্রত্যয়ও আরেকবার প্রতিফলিত হলো।

ভাসানচর বিষয়ক এই ঐকমত্যের মাধ্যমে দ্বীপটিতে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জন্য সেবা ও কার্যক্রমে সরকার ও জাতিসংঘের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা সম্ভব হবে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—সুরক্ষা, শিক্ষা, দক্ষতা প্রশিক্ষণ, জীবিকা ও স্বাস্থ্যসেবা; যার মাধ্যমে রোহিঙ্গারা দ্বীপটিতে মানসম্মত জীবনযাপন করতে পারবে এবং ভবিষ্যতে মিয়ানমারে টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে পারবে।

এই এমওইউ সইয়ের আগে জাতিসংঘ কক্সবাজারে ও ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের প্রয়োজন ও মতামত জানার জন্য তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং ২০২১ সালের মার্চে দ্বীপটি পরিদর্শন করেছে। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে এবং সরকার ও বাংলাদেশি এনজিওদের সঙ্গে এরকম আলোচনা নিয়মিত ভিত্তিতে চালু থাকবে; আর এটি ভাসানচরের মানবিক ও সুরক্ষা কার্যক্রমের জন্য সহায়ক হবে। কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের জন্য চলমান মানবিক কার্যক্রমের এ বছরের জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান এখন পর্যন্ত অর্ধেকেরও কম অর্থায়ন হয়েছে। চলমান সহায়তা বাড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জাতিসংঘ আহ্বান করছে।

এদেশে অবস্থিত রোহিঙ্গাদের আকাঙ্ক্ষা নিরাপদে, স্বেচ্ছায়, মর্যাদার সঙ্গে ও টেকসইভাবে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া। জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ সরকার সেই অগ্রাধিকার নিয়েই কাজ করছে; আর এটি যতদিন সম্ভব না হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত এই সহায়তা চলমান থাকবে।