বাংলাদেশের প্রখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী ও বিজ্ঞান লেখক অধ্যাপক এ এম হারুন অর রশীদ আর নেই। গতকাল শনিবার ভোরে ঢাকার একটি হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ... রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।
বিজ্ঞানের নানা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি বহু সম্মান ও পুরস্কারে ভূষিত হন। পদার্থবিজ্ঞানে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৯১ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন। ২০০৯ সালে তিনি বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় তিনি অনেক গবেষণা গ্রন্থ ও গ্রন্থ রচনা করেছেন। বাংলায় লেখা বইগুলোর মধ্যে রয়েছে: আইনস্টাইন ও আপেক্ষিকতা তত্ত্ব, বিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞানে বিপ্লব, কম্পিউটারের কাহিনী, আকাশভরা সূর্যতারা, চিরায়ত বলবিজ্ঞান, উপমহাদেশের কয়েকজন বিজ্ঞানী, আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের কয়েকজন স্রষ্টা ইত্যাদি।
অধ্যাপক হারুন অর রশীদ ১৯৫৫ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতা করেন। ১৯৬২ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনে মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৬৭ সালে তিনি ইসলামাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বীয় পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে প্রফেসর হিসেবে পুনরায় শিক্ষকতা শুরু করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ইসলামাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতায় ইস্তফা দেন। স্বাধীনতার পর পুনরায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত তিনি তত্ত্বীয় পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কম্পিউটার সেন্টারের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি অনেক সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেট, বাংলা একাডেমির নির্বাহী পরিষদ, এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ বিজ্ঞান অ্যাকাডেমি, থার্ডওয়ার্ল্ড অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস ইত্যাদি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিজ্ঞান সংস্কৃতি পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
অধ্যাপক হারুন অর রশীদের জন্ম ১৯৩৩ সালের পহেলা মে বরিশাল জেলায়। তিনি ১৯৫৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে বিএসসি (অনার্স) এবং ১৯৫৪ সালে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। উভয় পরীক্ষায় তিনি প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন। ১৯৬০ সালে যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তত্ত্বীয় পদার্থবিজ্ঞানে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
