দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে পাঠানো ১০ লাখ ডোজ কোভিশিল্ড টিকা দেশে এসে পৌঁছেছে। গতকাল শনিবার বিকালে একটি ফ্লাইটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসব টিকা পৌঁছায়। বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে টিকার এই চালান গ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, সিরাম ইনস্টিটিউটে উত্পাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার এই টিকার নাম দেওয়া হয়েছে কোভিশিল্ড।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকার গত বছরের ডিসেম্বরে ৩ কোটি ডোজ টিকা কেনার জন্য সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চুক্তি সই করে। চুক্তি অনুযায়ী তাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ করে টিকা পাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু এ পর্যন্ত দুই কিস্তিতে সেই টিকার মাত্র ৭০ লাখ ডোজ পাওয়া গেছে। এছাড়া ভারত সরকার উপহার হিসেবে ৩৩ লাখ ডোজ টিকা পাঠিয়েছিল। সব মিলিয়ে মোট ১ কোটি ৩ লাখ ডোজ টিকা এর আগে ভারত থেকে এসেছে।
চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি ভারত থেকে কেনা ৫০ লাখ টিকার প্রথম চালান আসে। এরপর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে কেনা টিকার দ্বিতীয় চালান আসে। এরপর ভারত থেকে কেনা টিকার চালান আর আসেনি। ভারতে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার কারণে টিকা রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বারবার জানানো হয় যে, অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পর আবারও টিকা রপ্তানি শুরু হবে। বর্তমানে ভারতে করোনার সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই টিকা রপ্তানিতে অনুমতি দিয়েছে ভারত সরকার।
বাংলাদেশকে ২ লাখ টিকা উপহার দেবে রোমানিয়া
রোমানিয়া সরকার বাংলাদেশকে উপহার হিসেবে দুই লাখ ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেবে। শুক্রবার রোমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্টে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠককালে সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বোগদান অরেস্কু এ কথা জানান।
রোমানিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের এই বৈঠকে ড. মোমেন দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে অব্যাহত অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোতে আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
