বে-টার্মিনাল ও গভীর সমুদ্রবন্দরের পাশে শিল্পকারখানা গড়ার তোড়জোড়

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২১, ২২:২১

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বে-টার্মিনাল নির্মাণের আগেই সংশ্লিষ্ট এলাকার আশ-পাশে বেসরকারি শিল্পোদ্যোক্তারা বিভিন্ন শিল্পকারখানা গড়ে তোলার তোড়জোড় শুরু করেছেন। অনেকেই মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও বে-টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় জমি পাওয়ার জন্য তদ্বির করছেন। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এ দুটি সমুদ্রবন্দর এলাকায় বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য জমি চেয়ে আবেদন করেছে।

ইতিমধ্যে শুরু হওয়া মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের নির্মাণকাজে জাইকা অর্থ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে। বন্দর ব্যবহারকারীসহ দেশের ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ পতেঙ্গা সমুদ্র উপকূলে বে-টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ কয়েক বছর আগে নেয়। সমুদ্র থেকে কর্ণফুলী নদীর ভেতর গড়ে উঠেছে চট্টগ্রাম বন্দর। তবে গড়ে ওঠা নানা প্রতিষ্ঠানের কারণে দেখা যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর সম্প্রসারণ কঠিন হয়ে পড়েছে।

বন্দর বিশেষজ্ঞদের মতে,               গভীর সমুদ্রবন্দর ও বে-টার্মিনাল সীমানার বাইরে আরো সম্প্রসারণের প্রয়োজন পড়তে পারে। সেজন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। বর্তমান অবকাঠামো সীমানার মধ্যে কিংবা তার কাছাকাছি বেসরকারি অবকাঠামো নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হলে আগামীতে বন্দর সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলমের মতে সরকার ৬০ থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে গভীর সমুদ্রবন্দর ও বে-টার্মিনাল নির্মাণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে। তাই ভবিষ্যত্ চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখে বন্দর দুটিকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে হবে। কোনোভাবেই যত্রতত্র প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দিয়ে ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের নেতিবাচক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা যাবে না।

জানা যায়, মাতারবাড়ীতে নির্মাণাধীন গভীর সমুদ্রবন্দরের সীমানা আরো সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সাউথ মিটিগেশন ডাইকসংলগ্ন কোহেলিয়া নদীসহ তত্সংলগ্ন এলাকায় দ্বিতীয় পর্যায়ের সম্প্রসারণ কাজ শিগিগর শুরু হবে। ইতিমধ্যে জমি অধিগ্রহণের ব্যাপারে বেসরকারি উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের ১৪ কিলোমিটার চ্যানেলে ১৬ মিটার থেকে ১৮ মিটার গভীরতায় জাহাজ প্রবেশের উপযোগী করে তোলার জন্য ড্রেজিং কাজ অব্যাহত রয়েছে।

একইভাবে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় বে-টার্মিনালের জন্য বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি জমি ৮০০ একর থেকে ৯০০ একর নেওয়া হলেও তা সমুদ্রের দিকে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে আরো জমি সংগ্রহ করে সম্প্রসারণ করা হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. শাহজাহান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর অনেক পুরোনো, সে ক্ষেত্রে এর আশ-পাশে অনেক প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। কিন্তু গভীর সমুদ্রবন্দর এবং বে-টার্মিনাল পরিকল্পিত বন্দর হিসেবে মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী গড়ে উঠছে। এক্ষেত্রে পরিকল্পনার বাইরে গিয়ে কোনো কিছু করার সুযোগ নেই।