ভেদরগঞ্জ উপজেলার পদ্মা নদীতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা-ইলিশ শিকারের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছে অভিযান পরিচালনাকারী দল। জেলেদের হামলায় উপজেলা মত্স্য কার্যালয়ের তিন জন মত্স্য সম্প্রসারণ কর্মী ও দুই জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে মত্স্য বিভাগের কর্মী আব্দুল বারেক মিয়া নিখোঁজ আছেন। এছাড়া পুলিশের একটি আগ্নেয়াস্ত্র খোয়া গেছে। শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার কাঁচিকাটা ইউনিয়নের মরিছাকান্দি এলাকায় পদ্মা নদীতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় নেতাদের আঁতাতেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরছেন এসব জেলে। এমনকি মা-ইলিশ রক্ষা অভিযান পরিচালনাকারী দলের ওপর হামলা করছেন তারা। উপজেলা মত্স্য বিভাগের কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, মা-ইলিশ শিকার করছেন জেলেরা। এমন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার কাঁচিকাটা ইউনিয়নের পদ্মা নদীতে অভিযান চালান উপজেলা মত্স্য বিভাগের কর্মী ও পুলিশ সদস্যরা। তারা একটি স্পিডবোট নিয়ে অভিযানে গেলে মরিছাকান্দি এলাকায় জেলেরা তাদের ওপর হামলা করেন। এ সময় তাদের বহনকারী স্পিডবোট উলটে নদীতে তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশ সদস্য ও মত্স্য বিভাগের কর্মীদের উদ্ধার করেন। ঐ হামলায় মত্স্য বিভাগের মত্স্য সম্প্রসারণ কর্মী জাহাঙ্গীর হোসেন, ওমর আলী, মাঠ ক্ষেত্র সহকারী কর্মকর্তা বিশ্বজিত্ দাস এবং সখীপুর থানার উপপরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান, পুলিশ সদস্য মেহেদী হাসান আহত হন।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভির আল নাসিফ বলেন, পদ্মা নদীতে জেলেরা শনিবার দুই দফা অভিযান পরিচালনাকারী দলের ওপর হামলা করেন। আমরা পাঁচ জনকে আটক করতে পেরেছিলাম। আর সন্ধ্যায় হামলার ঘটনায় পুলিশের একটি অস্ত্র হারিয়ে গেছে। ঘটনার পর থেকে মত্স্য বিভাগের মত্স্য সম্প্রসারণ কর্মী আব্দুল বারেক নিখোঁজ আছেন।
শরীয়তপুর জেলা মত্স্য কর্মকর্তা প্রণব কুমার কর্মকার বলেন, ‘ভেদরগঞ্জে পদ্মা নদী ৪১ কিলোমিটার পথ। দীর্ঘ এই নদীতে আমাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে জেলেরা মা-ইলিশ শিকার করছেন। তারা অভিযান পরিচালনাকারী দলের ওপর হামলা করেছেন। আমরা আরো কঠোর অভিযান চালাব। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।’
