পরিবার পরিকল্পনার সাবেক পরিচালক ও সাবেক যুগ্ম-সচিব ড. আশরাফুন্নেছার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল রবিবার দুদকের উপপরিচালক মো. সালাউদ্দিন বাদী হয়ে ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয় ১-এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ড. আশরাফুন্নেছার বিরুদ্ধে জাল ভাউচারে বিভিন্ন খাতে কেনাকাটায় পৌনে ২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৬ সেপ্টেম্বর অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় আশরাফুন্নেছাকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার চিঠি দেয় দুদক।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ড. আশরাফুন্নেছা ২০১৮ সালের ১২ মে থেকে ২০২০ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের আইইএম ইউনিটের পরিচালক পদে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহারে ভুয়া ভাউচার করে এবং প্রকৃত বাজারদর অপেক্ষা অধিক দরে বিভিন্ন খাতের সামগ্রী ক্রয়ের বিল দাখিল করেন, যার মাধ্যমে তিনি সরকারি ১ কোটি ৭৬ লাখ ৬৭ হাজার ৭৫২ টাকা আত্মসাত্ করেছেন, যা দণ্ডবিধি ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৪৭৭(ক) ধারা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫ (২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে ওয়ার্কশপ, সেমিনার কিংবা প্রশিক্ষণের নামে বিভিন্ন বিল দেখিয়ে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ৭ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর অভিযোগ যাচাইয়ে ড. আশরাফুন্নেছাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। একই অভিযোগে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (পিএম) জাকিয়া আখতার, উপপরিচালক (স্থানীয় সংগ্রহ) আবু তাহের মো. সানাউল্লাহ নূরী, সহকারী পরিচালক এ কে এম রোকনুজ্জামান ও গবেষণা কর্মকর্তা পীযূষ কান্তি দত্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। যদিও দুদকের দায়ের করা এই মামলায় আশরাফুন্নেছা ছাড়া কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। তবে এজাহারে বলা হয়েছে, তদন্তকালে কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাকে আসামি করা হবে।
