খুব ছোটবেলা থেকেই নিজের দেশ আর অবহেলিত মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছা তার। সেই থেকে যাত্রা শুরু। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোর শান্তি প্রতিষ্ঠায় জনমত গঠন এবং মহামারি করোনায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করার স্বীকৃতি স্বরূপ সম্প্রতি পেয়েছেন ‘আউটস্ট্যান্ডিং ইয়াং লিডার অব এশিয়া’। বলছিলাম নানা কাজে জড়িত থাকা ব্যতিক্রম এক তরুণ রাকিব আল হাসানের কথা। সম্প্রতি এশিয়ান ইউথ কাউন্সিল তাঁকে সহ এশিয়ার দশ তরুণকে ইয়াং লিডারের স্বীকৃতি দিয়েছে।
শুধু আন্তর্জাতিক পুরস্কার বিজয়ী নয়, লেখক হিসেবেও রাকিবের রয়েছে বেশ সুনাম। প্রায় বছর দশেক আগে থেকেই লেখালেখি শুরু করেন তিনি। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে নিয়মিত লিখতেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও তিনি বেশ সক্রিয়। তার লেখা ছাপা হচ্ছে নিয়মিতই। সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে সবসময়ই লেখেন তিনি। লিখেছেন বেশ কয়েকটি বই। এখন পর্যন্ত তার ৭টি বই প্রকাশিত হয়েছে। আছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের তারকা খেলোয়াড় মাশরাফির আদ্যোপান্ত নিয়ে লেখা 'মাশরাফিনামা' এর মধ্যে অন্যতম।
২০২০ এর ফেব্রুয়ারিতে আজারবাইজান-আর্মেনিয়া যুদ্ধ বন্ধে মুসলিম নেতাদের ঐক্যবদ্ধ করার কাজে সমর্থন আদায়ে ভূমিকা রাখেন রাকিব। এছাড়া করোনা পরবর্তী আফ্রিকার দেশগুলোর শিশুস্বাস্থ্য, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় করাচিতে স্থানান্তরিত হওয়া ৩০ লক্ষ মানুষের সামাজিক স্বীকৃতি ও নাগরিকত্ব প্রাপ্তি নিয়েও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সাথে আলোচনা করেছেন । এছাড়াও আফ্রিকা-এশিয়া ইয়ুথ ফাউন্ডেশন, ইউরোপিয়ান ইয়ুথ এসোসিয়েশন, ইন্টারন্যাশনাল ভলেন্টিয়ার ফোরাম অফ ইসলামিক কান্ট্রিস সহ বিভিন্ন জায়গায় অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছেন তিনি। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও তিনি বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছেন।
কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এই তরুণ ইতোমধ্যেই পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার। ২০১৯ সালে নেপালে গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ডসহ অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার রয়েছে তার ঝুলিতে।
ভবিষ্যতে একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তিনি। কাজ করতে চান দেশের মানুষের সুস্বাস্থ্য ও অনিয়মের বিরুদ্ধে। নিজেকে নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চান না রাকিব। পুরস্কারগুলো থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে আরো ভালো কাজ করার ইচ্ছা তার। মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছা তাকে সবসময় সাহস জোগায়। একটা সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন সৃজনশীল এবং কাজের প্রতি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষের এই তরুণ শিক্ষার্থী।
ইত্তেফাক/এসটিএম
