‘তার স্বদেশপ্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক জীবনদৃষ্টিই ভবিষ্যত্ আলোকিত বাংলাদেশের রূপকল্প’

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২১, ২২:৪৪

কাজী নজরুলের আগে একজন শীর্ষ মুসলমান বাঙালি মুন্সি আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ তার ধর্মীয় অনগ্রসরতা কাটিয়ে প্রবল সাম্প্রদায়িকতার ভেতরে হেঁটে হেঁটে কীভাবে তার দেশ-কাল-সমাজকে ডিঙিয়ে অসাম্প্রদায়িক হয়ে উঠেছেন তা একটি বিস্ময়কর ব্যাপার! যে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ আমরা চেয়েছি, তিনি সেই বাংলাদেশের কথা, বাংলা ভাষার কথা বহু আগেই বলেছেন। গতকাল বাংলা সাহিত্যের খ্যাতিমান গবেষক আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি আয়োজিত ‘জাতিস্মর মনীষী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ ’শীর্ষক বক্তৃতায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শিরীণ আখতার এ সব কথা বলেন।

গতকাল সকালে একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমির সংস্কৃতি, পত্রিকা ও মিলনায়তন বিভাগের পরিচালক নূরুন্নাহার খানম। প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। অনুষ্ঠানে আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের পরিবারের সদস্য অধ্যাপক নেহাল করিম, অ্যাডভোকেট যাহেদ করিম এবং গীতিকবি হাসান ফকরী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির সহপরিচালক সায়েরা হাবীব।

অধ্যাপক শিরীণ আখতার আরো বলেন,  প্রকৃতপক্ষে আবদুল করিমকে জানতে হলে এবং তার মন-মানস সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পেতে হলে তার সংগ্রহ কর্মকাণ্ড, সমগ্র রচনাবলি এবং তার চিন্তা-চেতনার সঙ্গে পরিচিত হওয়া প্রয়োজন।

কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ স্বশিক্ষিত এবং সুশিক্ষিত সাহিত্যবিশারদের জীবন থেকে আমাদের স্বশৃঙ্খলা ও স্ব-ব্যবস্থাপনার শিক্ষা নেওয়ার আছে। তার মাতৃভাষা প্রেম, স্বদেশপ্রীতি এবং অসাম্প্রদায়িক জীবনদৃষ্টিই তো ভবিষ্যত্ আলোকিত বাংলাদেশের রূপকল্প।