লাভলুর ‘ওয়ারলেস হ্যান্ড’

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২১, ২০:২০

 

>> মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ

 

মানুষের হাতের মতই নড়ছে, যেকোনো দিকে যাচ্ছে ঘোরানো, করা যাচ্ছে মুষ্টিবদ্ধও, এমনকি যেকোনো জিনিস ধরে উপরে তোলার কাজও করা যায়। বলছিলাম জয় বড়ুয়া লাভলুর তৈরি করা ‘ওয়ারলেস হ্যান্ড’ বা একটি রোবটিক হাতের কথা। এটি তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছেন লাভলু। ছোটবেলা থেকেই ইলেকট্রনিক্সের ব্যাপারে দারুণ আগ্রহ লাভলুর। ঘরে ব্যবহূত কোনো জিনিস নষ্ট হলে তা খুলে ঠিক করতেন তার বাবা, তা দেখেই তার এসব কাজে আগ্রহ জন্মে। স্কুলে পড়ার সময় থেকেই জয় নিজেও মন দেন নতুন কিছু তৈরিতে। চট্টগ্রামের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে ইলেকট্রনিক্সে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অধ্যয়নরত জয় বড়ুয়া লাভলু। প্রকৌশলে পড়াশোনা করলেও তার উদ্ভাবনের সংখ্যা একেবারে কম নয়। স্কুলে পড়ার সময় থেকেই লাভলু সবার কাছে খুদে বিজ্ঞানী হিসেবে পরিচিত।  লাভলুর মতে, যারা বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটে কাজ করে কিংবা বিভিন্ন লোহা ফ্যাক্টরিতে নানারকম বিপদজনক কাজ করেন, তারা এই রোবটিক্স ওয়ারলেস হাত ব্যবহার করতে পারবেন। এটি কন্ট্রোল করা হবে মানুষের হাতের সঙ্গে  লাগানো একটি ট্রান্সমিটার হাতের সাহায্য। এর ফলে যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটলে শ্রমিকরা তাদের হাত রক্ষা করতে পারবেন। বিশেষ করে যারা শারীরিক প্রতিবন্ধিতার শিকার, তাদের জন্য এটা খুবই উপকারী হতে পারে। লাভলু জানান, রোবটিক হাতটি তৈরি করতে মাত্র ১৫ হাজার টাকা খরচ পড়েছে। এতে বেশকিছু সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে। এটি ট্রান্সমিট সিস্টেমের মাধ্যমে এবং মানুষের পেশির সিগন্যালের মাধ্যমে কাজ করে। যার হাত নেই, তিনিও এটি ব্যবহার করতে পারবেন। আবার অনেক সময়ই হাই-ভোল্টেজ ইলেকট্রিকসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ‘তৃতীয় হাত’ দরকার হয়, সেক্ষেত্রেও এটি উপকারী হবে। রোবটিক হাতের মতো প্রযুক্তি যেন দরিদ্র মানুষ স্বল্পমূল্যে কিনে ব্যবহার করতে পারেন তাই লাভলুর এ চেষ্টা। মানুষের উপকারে এলেই তার এই প্রচেষ্টা সফল হবে বলে মনে করেন তিনি। একদিন অনেক বড় বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন লাভলু। পরিবারে কিছুটা আর্থিক অনটন থাকায় ইচ্ছা থাকলেও অনেক কাজ করা সম্ভব হয় না। এজন্য পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। লাভলু জানান, চেষ্টা চালাচ্ছি ট্রেড মার্ক আর অনুমোদন লাভের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা পাওয়ার। তবে পরিবারের সদস্যরা আমাকে সবসময় উত্সাহ দিয়েছেন, কাজে সহযোগিতা করেছেন। ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা বিষয়ে লাভলু জানান, ভবিষ্যতে তিনি একটি বড় রোবটিক্স প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবেন, যেখানে নানারকম উন্নত প্রযুক্তি আর সকল রোবটিক্স বিষয়ে গবেষণা করা হবে। সেইসঙ্গে নতুন প্রজন্মকে সেসব কাজ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হবে। সেই লক্ষ্যে তিনি বাংলাদেশ রোবট সাইন্স অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টার নামে একটি অর্গানাইজেশন চালু করেন, যেখানে তিনি স্কুল শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন রকম রোবটিক্স সম্পর্কে ধারণা প্রদান করছেন। নিজের উ"্ভাবনী মেধার স্বীকৃতি হিসেবে এরই মধ্যে বেশকিছু পুরসড়ার পেয়েছেন জয় বড়ুয়া লাভলু। ২০১৯ সালে নাসা ষ্পেস অ্যাপ চ্যালেনে্জ চট্টগ্রাম হতে প্রথম স্থান অর্জন করে লাভলু ও তার দল।