চিকিত্সকসহ জনবল সংকটে সেবা ব্যাহত

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২১, ২১:২৯

রুমী খোন্দকার, পাবনা প্রতিনিধি

মানসিক রোগের চিকিত্সাসেবায় দেশের একমাত্র বিশেষায়িত পাবনা মানসিক হাসপাতালের চিকিত্সা কার্যক্রম চিকিত্সক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, মাত্র তিন জন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সককে ৫০০ শয্যার অন্তঃবিভাগ-বহির্বিভাগে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয় প্রতিদিন। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মোট জনবলের পদসংখ্যা ৬৪৩টির বিপরীতে শূন্য রয়েছে ২০১টি পদ। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণির চিকিত্সকের ৩১টি পদের মধ্যে শূন্য ২০টি। সাতটি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার মধ্যে শূন্য তিনটি। এছাড়া দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা ৩১৬টি পদের মধ্যে ৪১টি পদ শূন্য রয়েছে। ১১৯টি তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী পদের মধ্যে শূন্য ৩৭টি। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ১৭০টি পদের মধ্যে ১০০টি পদই শূন্য রয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে সরজমিনে দেখা যায়, পুরোনো ছোট্ট একটি ভবনে চলছে বহির্বিভাগের কার্যক্রম। কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার হাসিমপুর গ্রামের আরিফ বিশ্বাস। তার মেয়ে লিপি খাতুনের কোলে দেড় বছরের শিশুসন্তান রাহাত। পাবনা মানসিক হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিত্সক দেখাতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছেন। ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডু থেকে মেয়েকে নিয়ে এসেছেন রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, এখানে একটু বসা বা বিশ্রামের কোনো ব্যবস্থা নেই। কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার আলম আলী বিশ্বাস তার স্ত্রী কণা খাতুনকে নিয়ে গত পাঁচ বছর ধরে চিকিত্সা করাচ্ছেন পাবনা মানসিক হাসপাতালে। কিন্তু প্রতি বারই তাকে দুর্ভোগে পড়তে হয়। সিরিয়াল দিয়ে বসে থাকতে হয়। প্রচণ্ড ভিড়ে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হওয়ার জোগাড়। চিকিত্সক কম। রোগীকে ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। পাবনা মানসিক হাসপাতালের আবাসিক সাইকিয়াট্রিস্ট মাসুদ রানা জানান, তারা মাত্র তিন জন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক ৫০০ শয্যার হাসপাতালের অন্তঃবিভাগ ও বহির্বিভাগ সামলাচ্ছেন। তাদের অনেক সময় নাভিশ্বাস উঠে যায়।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার শাহিন রেজা বলেন, হাসপাতালের অনেকগুলো ওয়ার্ড রয়েছে। কোনো ওয়ার্ডে ৪০ জন রোগী আছে। একজন চিকিত্সকের পক্ষে ৪০ জনের সেবা দেওয়া কঠিন। সেখানে প্রতিটি ওয়ার্ডে যদি দুই জন করে চিকিত্সক থাকত তাহলে প্রতিটি রোগী আরো ভালো চিকিত্সাসেবা পেতেন। অন্তঃবিভাগে চিকিত্সাধীন রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয় নার্সদেরও। পর্যাপ্ত লোকের অভাবে তাদেরও দুর্ভোগে পড়তে হয়। নার্সিং সুপারভাইজার রাশেদা খাতুন ও আব্দুল কাদের বলেন, লোকবলের অভাবে তাদের দায়িত্ব পালনে কষ্ট বেড়ে যায়। হাসপাতালের পরিচালক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ইত্তেফাককে জানান, চিকিত্সক পদায়নসহ জনবল সংকটের বিষয়টি নিয়ে বারবার মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হলেও পরিস্থিতির উন্নতি নেই। উন্নত চিকিত্সাসেবা দিতে হলে জনবল বাড়াতেই হবে।