বরাদ্দকৃত অধিকাংশ প্লট খালি পড়ে আছে

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২১, ২১:৩৩

মোহাম্মদ ইউসুফ, মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

মিরসরাই বিসিক শিল্পনগরীর কাজ ২০০৯ সালে শুরু হয়। শেষ হয় ২০১৭ সালে। পরে ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে ৮৮টি প্লটের বরাদ্দ দেওয়া হলেও অধিকাংশ প্লটে কোনো কারখানার নির্মাণ কাজ শুরুই হয়নি। প্লট বরাদ্দ পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে কারখানার লেআউট জমা দেওয়ার কথা থাকলেও ১৯টি প্রতিষ্ঠান দুই বছরেও তা জমা দেয়নি। বর্তমানে শিল্পনগরীতে দুইটি প্রতিষ্ঠান পরীক্ষামূলক উত্পাদন শুরু করেছে। এছাড়া আরো দুইটি প্রতিষ্ঠানের কারখানা নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। ফলে অধিকাংশ প্লট এখনো খালি পড়ে আছে। যথা সময়ে বিসিক শিল্পনগরীর কাজ শেষ না হওয়া ও প্লট বরাদ্দ পাওয়ার পরও কারখানার নির্মাণকাজ শুরু না করায় আলোর মুখ দেখছে না দেশের ৭৫তম বিসিক শিল্পনগরীটি।

বিসিক সূত্র জানায়, ২০০৯ সালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন মিরসরাই পৌরসভার পূর্ব তালবাড়িয়া রেলস্টেশন এলাকায় ২০১০-২০১১ অর্থবছর প্রকল্পের জন্য ১৫ দশমিক ৩২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। পরে দুই দফায় সময় বাড়িয়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হয় ২০১৭ সালের জুন মাসে। কাজ শেষ হওয়ার দুই বছর পর বরাদ্দের জন্য ৮৮টি প্লটের বিপরীতে ১১৪টি আবেদনপত্র জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে ৮৮টি প্লট শিল্পোদ্যোক্তাদেরকে বরাদ্দ দেয় বিসিক চট্টগ্রাম জেলা প্লট বরাদ্দ কমিটি।

বিসিক সূত্রে আরো জানা গেছে, মিরসরাই বিসিক শিল্পনগরীতে এ-টাইপ প্লট-২৭টি, বি-টাইপ প্লট-৩৩টি ও সি-টাইপ প্লট-২৮টি। প্লট বরাদ্দ কমিটি প্রকৌশল খাতে ১৯টি, তৈরি পোশাক খাতে ১৬টি, খাদ্য ও খাদ্যজাত খাতে ১৯টি, কেমিক্যাল অ্যান্ড অ্যালাইড খাতে ১০টি, বন ও বনজাত খাতে তিনটি, প্যাকেজিং খাতে আটটি, সিরামিকস ও নন মেটালিক-তিনটি, রাবার-লেদার অ্যান্ড অ্যালাইড খাতে-চারটি প্লট বরাদ্দ দিয়েছেন। পণ্য উত্পাদনের জন্য গ্যাস, বিদ্যুত্, পানিসহ নানা সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে মিরসরাই বিসিক শিল্পনগরীকে।

নাছির কেমিক্যালের পরিচালক আবুল কালাম আজাদ জানান, ২০১৯ সালের শেষে দিকে মিরসরাই বিসিক শিল্পনগরীতে সাড়ে ১১ শতাংশ জমি বরাদ্দ পাই আমরা। কারখানার নির্মাণকাজ শেষে পরীক্ষামূলক ট্রান্সফরমার রিসাইক্যালিং, গিরিজ, মোবিল উত্পাদন করা হচ্ছে।

বিসিক চট্টগ্রামের প্রমোশন কর্মকর্তা ও মিরসরাই বিসিক শিল্পনগরীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ তানজিলুর রহমান জানান, মিরসরাই বিসিক শিল্পনগরীতে ৮৮টি প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়। এখন চারটি প্রতিষ্ঠান চালু হয়েছে। তিনি আরো জানান, প্লট বুঝে পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে কারখানার লেআউট জমা দিতে হয়। লেআউট পাশ হলে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে কারখানার নির্মাণ শুরু এবং ১৮ মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার নিয়ম রয়েছে। প্লট বরাদ্দ পাওয়ার পর ১৯টি প্রতিষ্ঠান লেআউট জমা দেয়নি। তাদেরকে এলইসি সভায় তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছিল। যা গত সেপ্টেম্বর মাসে শেষ হয়েছে। ঐ প্লট মালিকদের বিষয়ে পরবর্তী সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কারখানার নির্মাণকাজ চালু করার জন্য সব প্রতিষ্ঠানকে দাপ্তরিক চিঠির মাধ্যমে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। প্লট বুঝে পাওয়ার পরও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কারখানা নির্মাণকাজ শেষ না করলে তা বাতিল করা হবে বলে জানান তিনি।