আইয়ুব বাচ্চু’র ডিজিটাল আর্কাইভ নিয়ে প্রথম উদ্যোগ

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২১, ২১:৩৯

তানভীর তারেক

 

প্রয়াত কিংবদন্তী কণ্ঠশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর সংগীতজীবনের মেধাস্বত্ত্ব সংরক্ষণ ও ডিজিটাল আরকাইভিং কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়েছে। সংগীতশিল্পীর সৃষ্টি কর্মকে সংরক্ষণ ও স্বত্ত্ব সুরক্ষায় বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের এক ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগের অংশ হিসেবে এটি বাস্তবায়ন করা হয়। গত বছরের ১৮ অক্টোবর এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিমন্ত্রী কে এম খালেদ। গতকাল এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্জিত রয়ালিটি হস্তান্তরের জন্য এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস। অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালেক, কপিরাইট বোর্ডের চেয়ারম্যান সাবিহা পারভিন, কপিরাইট অফিসের রেজিস্ট্রার জাফর রাজা চৌধুরী, আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী ফেরদৌস আক্তারসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচিটি বাস্তবায়নের পর আইয়ুব বাচ্চুর কপিরাইট নিবন্ধিত ২৭২ গানের বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় চ্যানেল ওপেন করে মনিটাইজিং ও Digital Sinking-এর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। গত ১ বছরে সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল প্লাটফর্মে আইয়ুব বাচ্চুর রেজিস্ট্রার্ড অ্যাকাউন্ট ‘এবি কিচেন’-এ রয়্যালিটি হিসেবে ৫ হাজার মার্কিন ডলার জমা হয়েছে। এছাড়া আইয়ুব বাচ্চুর গানগুলোকে দুটি মোবাইল কোম্পানি ও একটি স্থানীয় ওটিটি প্লাটফর্মে ব্যবহারের জন্য একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। চুক্তি অনুসারে প্রতিষ্ঠানটি এককালীন ৫ লক্ষ টাকার অগ্রীম চেক আইয়ুব বাচ্চুর পরিবারকে হস্তান্তর করেছে। উল্লেখ্য, এই টাকা দুটি মোবাইল কোম্পানি ও ওটিটি প্লাটফর্ম থেকে অর্জিত রয়্যালিটি থেকে সমন্বয় করা হবে। অর্জিত রয়্যালিটির মাসিক প্রতিবেদন আইয়ুব বাচ্চুর পরিবারকে নিয়মিত দেওয়া হবে, যা বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস থেকে মনিটরিং করা হবে।

এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী কে এম খালেদ বলেন, ‘গান আপলোড করে ডিজিটাল মিডিয়ার দ্বারা যে অর্থ উপার্জিত হতে পারে, এটি আমাদের দেশে একটি নতুন ধারণা। এখনো এ দেশের অধিকাংশ মানুষের কাছে তা অবিশ্বাস্যও বটে।’ এ ধরনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগের মাধ্যমে একজন সংগীতজ্ঞকে সম্মান জানানো, তার সৃষ্টিকে সংরক্ষণের পাশাপাশি আর্থিক উপার্জনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসকে সাধুবাদ জানান। কপিরাইট অফিসের রেজিস্ট্রার জাফর রাজা চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যান্ড মিউজিকের অন্যতম নন্দিত শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু। তিনিই ছিলেন ডিজিটাল পদ্ধতিতে কপিরাইট রেজিস্ট্রেশনের প্রথম আবেদনকারী। তার সৃষ্টিশীল কর্মকে সংরক্ষণের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ।’ ভবিষ্যতে দেশের সংগীতের জগতে কিংবদন্তী ও জনপ্রিয় ব্যক্তিদের সৃজনশীল কর্মের স্বার্থ সুরক্ষায় অনুরূপভাবে সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করার লক্ষ্যে একটি প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য প্রতিমন্ত্রীর সহায়তা কামনা করেন।