ভেঙে ফেলতে হবে সরকারি এক ডজনের বেশি স্থাপনা

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২১, ২২:২৮

সরকারি স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক ডজন স্থাপনা ভেঙে নির্মাণ করা হবে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়। তার মধ্যে অধিকাংশ স্থাপনা ১০/১২ বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছে। এই জায়গার মধ্য দিয়ে গেছে ২৪ ইঞ্চি ব্যাসের গ্যাস সঞ্চালন লাইন। এদিকে গত পাঁচ বছরেও অনুমোদন মিলেনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের ডিপিপির। ডিপিপি কয়েকবার ঘষামাজা হয়েছে। বর্তমানে বিআইটিআইডি ভবনে অস্থায়ী কার্যালয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানান, সীমিত জনবল দিয়ে প্রায় ৪০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম তদারকি করতে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ১ হাজার শয্যার হাসপাতাল যুক্ত রয়েছে। কিন্তু হাসপাতাল না থাকায় পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন কোর্স চালু করা যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ ইকোনমিক ডিপার্টমেন্ট দ্বিতীয় দফায় প্রকল্পের ডিপিপি তৈরি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। এর পর এটি প্ল্যানিং কমিশনে যাবে। পরবর্তী সময় একনেকে পাশ হওয়ার পর নির্মাণ কাজের পদক্ষেপ শুরু করা যাবে।

২০১৬ সালে চট্টগ্রাম, সিলেট ও রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়। এই তিন মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় সরকার এক সঙ্গে অনুমোদন দেয়। প্রথম পর্যায়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপিপিতে ক্রয়সংক্রান্ত বিষয়ে নানা অসংগতির কারণে দ্বিতীয় দফায় ডিপিপি তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ছয়টি সরকারি ও ১০টি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও ২৪টি নার্সিং কলেজ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। ফলে স্থায়ী কার্যালয়ে বসে সীমিত জনবল দিয়ে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মেডিক্যাল কলেজ ও নার্সিং কলেজ মিলিয়ে ৪০টি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম তদারকি করতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। বর্তমানে কর্মরত জনবল রয়েছে প্রায় ৪৮ জন। ডিপিপি অনুমোদন নিয়ে দীর্ঘসূত্রতায় অবকাঠামো নির্মাণে বিলম্ব হচ্ছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে পরবর্তী সময় অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু করা যাবে। ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২৩ দশমিক ৯২ একর জায়গার ওপর এই বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. মো. ইসমাইল খান ইত্তেফাককে বলেন, ‘ডিপিপি অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক কাজ এগিয়ে যাবে। এখন সীমিত জনবল দিয়ে অনেক কাজ করতে হচ্ছে। হাসপাতাল না থাকায় বিভিন্ন বিষয়ে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন কোর্স চালু করা যাচ্ছে না।’

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ফৌজদারহাট এলাকায় বক্ষব্যাধি হাসপাতালের জায়গার ওপর এই বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করা হচ্ছে। যদিও এই জায়গায় বিশ্ববিদ্যালয় করা নিয়ে বর্তমানে অবস্থানকারী স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিষ্ঠানগুলোর ভিন্ন মত রয়েছে। তাদের মতে মহাসড়কের পূর্ব পাশে বায়েজিদ লিংক রোডের পাশে শত শত একর সরকারি খাসজমি রয়েছে। সেখানেও এ প্রতিষ্ঠান করা যেত। বর্তমানে এ জায়গায় একটি নার্সিং কলেজ, বক্ষব্যাধি হাসপাতাল, হেলথ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি ও বিআইটিআইডি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের হাসপাতাল, একাডেমিক ভবন, শিক্ষার্থীদের ছাত্রাবাস, স্টাফ কোয়ার্টারসহ প্রায় ২০টির অধিক কয়েক তলাবিশিষ্ট স্থাপনা রয়েছে। এগুলোর অর্ধেক স্থাপনা ভেঙে ফেলতে হবে।