ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই বিভিন্ন ঘরানার চরিত্রে নিজেকে উপস্থাপন করছেন অভিনেতা আফরান নিশো। নাটক, ওয়েব সিরিজে তার প্রাণবন্ত অভিনয় বরাবরই প্রশংসিত। নিজের অভিনয় ব্যস্ততাসহ ইন্ডাস্ট্রির নানা বিষয় নিয়ে তিনি কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল
বর্তমান কাজের ব্যস্ততা নিয়ে জানতে চাই—
‘ম্যাটেনি শো’, ‘দ্বিধা-দ্বন্দ্ব’, ‘তিতলির ঘরে ফেরা’, ‘হেল্প মি’ নাটকগুলোর কাজ শেষ করলাম। পাশাপাশি ‘কিডন্যাপার’, ‘রুমমেট’, নীল জলের কাব্য’সহ আরো কয়েকটি নাটকের শুটিং করছি। এছাড়া বেশ কয়েকটি ওয়েব সিরিজে কাজের কথাও চলছে।
বরাবরই বিভিন্ন ঘরানার চরিত্রে আপনার দেখা মিলছে। নিজেকে ভাঙার নেপথে বিশেষ কোনো কারণ আছে কী?
আমি একটানা কখনোই একই ধরনের গল্পে কাজ করিনি। আসলে শুরুর দিকে বিভিন্ন ঘরানার চরিত্রে কাজ করলেও সেভাবে আমার কাজগুলো নিয়ে আলোচনা করা হতো না। একটা সময় তো অভিনয়ের প্রতি অনিহাও তৈরি হয়েছিল। তখন অনেকেই ইমেজ তৈরির জন্য একই ঘরানার ৫০টি নাটক করার কথাও বলেছেন। বিভিন্ন চরিত্রে কাজ করলে যা অর্জন করা কঠিন। তখন আমার ভেতর জেদ চাপে যে, আমি কঠিন পথটিই বেছে নেব।
এ ধরনের এক্সপেরিমেন্টাল কাজ ক্যারিয়ারের জন্য চ্যালেঞ্জিং নয় কী?
আমি কিন্তু শুরু থেকেই নিজেকে ভাঙার চেষ্টা করছি। ‘দেখি হয় কি-না!’—এমন চিন্তা থেকে আমি কখনোই কাজ করি না। একটি কাজের আগে যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে তবেই অভিনয় করি এবং চিন্তা থাকে আমি কাজটি করতে পারব বা পারতে হবে।
নাটকের পাশাপাশি ওটিটিতেও কাজ করছেন। মাধ্যমটি নিয়ে নিশোর প্রত্যাশার জায়গা কোথায়?
প্রতিটি নতুন মাধ্যমই আমাদের জন্য আশীর্বাদ। এতে নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরির পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রি বড় হয়। শিল্পী-কলাকুশলীদের এক ধরনের উত্থান হয়। কারণ এই শিল্পটির সঙ্গে তো আমাদের অর্থনৈতিক বিষয়টিও জড়িত। আর নতুন মাধ্যমে কাজের আগ্রহ আমার বরাবরই রয়েছে এবং মাধ্যমটি নিয়ে আমি দারুণ আশাবাদী।
ওটিটি আসায় গল্প নির্ভর কাজের দিকে নির্মাতারা বেশি মনোযোগী হচ্ছেন। এটাকে দর্শক চাহিদা, নাকি প্রেক্ষাপট পরিবর্তন বলবেন?
ওটিটি আসার পর এই পরিবর্তন হচ্ছে, বিষয়টি তেমন না। সব সময়ই নাটকের প্রেক্ষাপট বা গল্পের পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু এই পরিবর্তনটা কীভাবে হয়েছে সেটা দেখার বা জানার জন্য আমাদের কোনো আর্কাইভ নেই। ফলে চাইলেও জানা সম্ভব হয় না। তবে ওটিটি আসায় নির্মাতারা একটি গল্প সঠিকভাবে তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন।
কিন্তু ওটিটির কাজগুলো প্রশংসিত হলেও থ্রিলারধর্মী কাজের প্রবণতা বাড়ছে। এতে আমাদের নিজস্ব গল্প বলার সুযোগ কমে যাচ্ছে না?
দেখুন, ওটিটির যে কাজগুলো দেশের বা বাইরের প্লাটফর্মগুলোতে প্রশংসিত হয়েছে সেগুলো কিন্তু থ্রিলার না। আমাদের নিজস্ব সমাজ, সংস্কৃতি, মাটি-মানুষের গল্প। শুধু ওটিটি না, আমাদের যে নাটকগুলো প্রশংসিত হচ্ছে সেগুলোও নিজেদের গল্প। তাই আমার মনে হয়, থ্রিলারের বাইরে আমাদের সংস্কৃতির গল্প নিয়ে বেশি কাজ হওয়া দরকার।
এখন ভিউ গুণে নাটকের মান ও শিল্পী নির্বাচন করা হচ্ছে। এই চর্চাকে কীভাবে দেখছেন?
ব্যবসায়িক দৃষ্টিতে যাকে দিয়ে অর্থ উঠে আসবে তাকে নিয়ে একজন নির্মাতা বা প্রযোজক কাজ করতেই পারেন। তারা তাকে স্টার ভাবতেই পারেন। চ্যানেলগুলোও একই চিন্তা করবে এটাই স্বাভাবিক। তবে জনপ্রিয়তা ও জনপরিচিতির মাঝেও পার্থক্য আছে। যার নাটকে ভিউ বেশি হচ্ছে তিনি বড় স্টার হচ্ছেন। আর যার নাটকে পজিটিভ রিভিউ বেশি হচ্ছে তিনি ভালো পারফর্মার হচ্ছেন। ভিউকে খারাপভাবে দেখি না, তবে ভিউ পাওয়া সব কাজ ভালো হবে সেটাও বলা যাবে না। আসলে ভিউ এক ধরনের ডাটা। ভিউ কখনো নাটকের মান নির্ধারণ করতে পারে না। আর আমার মনে হয়, দর্শকপ্রিয়তা ও দর্শকগ্রহণযোগ্যতা মিলিয়েই একজন সুপারস্টার তৈরি হয়।
তারকাদের দর্শক প্রশংসার পাশাপাশি অনেক সময় সমালোচনা শুনতে হয়। এই বিষয়টি কীভাবে দেখেন?
দেখুন, একজনকে নিয়ে মন্তব্য করতে গেলেও বোদ্ধা হতে হয়। কিন্তু ফেসবুকের কারণে সবাই জ্ঞানী হয়ে গেছেন। ফলে না জেনে বুঝেই সাইবার বুলিং করে ফেলেন। বিকৃতমনা মানুষগুলো এটা করে মজাও পান। তবে আমার কাছে মনে হয়, কারো ভুল থাকলে পাবলিক প্লেসে আক্রমণ না করে একান্তে ভুলটি ধরিয়ে দেওয়া উচিত।
