গোলাম মোস্তফা আনছারী, স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর
রংপুর নগরীর শাপলা চত্বরে প্রতিদিন সকালে বসে শ্রম বিক্রির বাজার। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেক শ্রমিক এখানে আসেন শ্রম বিক্রি করার জন্য। তারা আসেন কেউ সাইকেলে, কেউ অটোরিকশায় আবার কেউ পায়ে হেঁটে। এভাবে সকাল ৮টা বাজতেই জড়ো হয় প্রায় দুই শতাধিক মানুষ। কারো হাতে থাকে ডালি-কোদাল, দা-কাঁচি। কারো হাতে হাতুড়ি ও করাত। রংপুর অঞ্চলে প্রতি বছরের আশ্বিন ও কার্তিক মাসে নিম্ন আয়ের মানুষের হাতে কাজের অভাব দেখা দেয়।
প্রতিদিন সকালে শাপলা চত্বরে এসব নিম্নআয়ের মানুষ জড়ো হন কাজের সন্ধানে। সেখান থেকে দরদাম মিটিয়ে তাদের কাজে নিয়ে যান গৃহস্থ ক্রেতারা। তবে কোনো কোনো দিন দেখা যায়, অনেকে উত্কণ্ঠা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর কাজ না পেয়ে বাড়ি ফেরেন।
মাহিগঞ্জ থেকে আসা শ্রমিক রেজাউল করিম বলেন, সকাল ৮টায় আসি ১২টায় যাই। কাজ হলে নিয়ে যায়, না হলে বাড়ি ফিরে যাই। এখন দিনমজুরের ‘ডাল সিজন’। কারো হাতে কাজ নাই। রংপুরের গুড়াতি পাড়ার আশিকুর রহমান বলেন, গত পাঁচ দিনে কোনো মজুরির কাজ পাইনি। একজন এসে বালু তোলার কাজে মজুরি দিতে চায় দৈনিক ২০০ টাকা। রংপুর কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলে সাড়ে ৫ লাখের ওপর শুধু মৌসুমী শ্রমিক রয়েছেন।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, শুধু কৃষির ওপর নির্ভরতার কারণেই রংপুরে কর্মসংস্থান হচ্ছে না। এ কারণে শ্রমিক এবং দরিদ্রতার হার বাড়ছে। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোরশেদ হোসেন বলেন, রংপুর বিভাগের অর্থনীতি মূলত কৃষিভিত্তিক। যুগ যুগ ধরে শিল্প খাত রয়ে গেছে অনুন্নত। এ ক্ষেত্রে যেসব এলাকায় বেশি শিল্পায়ন হয়েছে সেখান থেকে কম শিল্পায়ন এলাকায় শিল্প পুনর্বণ্টন ও স্থানান্তর করা যেতে পারে। তিনি বলেন, গার্মেন্টস শিল্প হচ্ছে শ্রমঘন শিল্প। রংপুর বিভাগের সস্তা শ্রম এ ক্ষেত্রে সহায়ক। এ অঞ্চলে গার্মেন্টস শিল্প স্থাপন করা হলে এখানকার দরিদ্র জনসাধারণের আয় ও জীবনযাত্রার মান বাড়বে।
রংপুর চেম্বারের প্রেসিডেন্ট মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটু বলেন, বেকারত্ব দূর করতে হলে কৃষির বাইরে ভারী, ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্পকারখানা তৈরি করতে হবে। উত্তরবঙ্গের জন্য পাঁচ বছর বা ১০ বছর মেয়াদি একটি পলিসি নিতে হবে।
