বিশ্বাসেরই নিঃশ্বাস নেই

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:১৬

নূতন বইয়ের গন্ধ এবং বই পড়ার আনন্দ অনেকেরই পছন্দ। শীতে শিশির ভেজা ঘাসের যেমন ঘ্রাণ আছে, তেমনি নূতন বইয়েরও ঘ্রাণ আছে। যা পাওয়া যায় প্রাণের এই বইমেলায়। প্রযুক্তির কল্যাণে আমরা মোবাইল ফোনেও এখন বই পড়তে পারি কিন্তু কাগজে ছাপা বইয়ের ঘ্রাণ আর পড়ার আনন্দ অন্যরকম। আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ভাষার জন্য আমাদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এই মেলা। তাই মেলায় এলে সবার মধ্যেই স্বতঃস্ফূর্ততা   লক্ষ্য করা যায়।  তবে আমাদের স্বত্বায়, মননে যেভাবে পরজীবী হবার চাষ চলছে, টিভিতে, রেডিওতে যেভাবে ভাষার বিকৃতি ঘটিয়ে উদ্ভট সংলাপ এবং কথা হচ্ছে, শিশুদের যেভাবে এইসব অপভাষা গেলানো হচ্ছে তার পরিণতি খুব একটা ভালো নয়। আজকাল কিছু ছেলেমেয়ের কথা শুনলে মনে হয়, তারা খুব কষ্ট করে বাংলায় কথা বলছে। তাই বেশি বেশি বই পড়ার অভ্যাস করতে হবে। কারণ বই অজানাকে জানার সুযোগ করে দেয়, কল্পনা শক্তি বাড়িয়ে দেয়, ভাবতে শেখায়, মনকে আলোকিত করে। টেলিভিশন মিডিয়ায় কাজ করার আগে থেকে কম বেশি লেখালেখি করতাম। তবে এখন লেখালেখিতে যতটুকু সময় দেয়া প্রয়োজন সেটা দিতে পারি না। তারপরও টুকটাক লিখতে লিখতে ৩০ টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়ে গ্যাছে। আমার কিছু বন্ধু এখনও আমাকে প্রায়শই লিখতে বলে কিন্তু ইচ্ছে থাকলেও ব্যস্ততার কারণে পারি না। আমার বর্তমান সমস্ত ব্যস্ততাই ‘ইত্যাদি’কে ঘিরে। কোয়ান্টিটি কম হলেও কোয়ালিটি রক্ষার জন্য নিরন্তর কাজ করতে হয়। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে জনকল্যাণকামী আলোকিত মানুষদের খুঁজে আনতে হয়। যারা কোন কিছু প্রাপ্তির আশায় না, নিজের দায়বোধ থেকে কাজ করেন। প্রচার বিমুখ নিভৃতচারী এইসব গুণী মানুষদের খুঁজে পেতে হলে কিছুটা কষ্টতো করতেই হয়। তাছাড়া অনুষ্ঠানের পাশাপাশি কিছু সামাজিক কর্মকাণ্ডও করতে হয়। কারণ এই দীর্ঘ সময়ে ‘ইত্যাদি’র উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে কিছু সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এর পেছনেও প্রচুর সময় দিতে হয়। যে কাজগুলো নিরবে-নিভৃতেই হয়।

আমার এবারের বইটির নাম ‘বিশ্বাসেরই নিঃশ্বাস নাই’। ‘মানুষ নিঃশ্বাসে যেমন বাঁচে-তেমনি বিশ্বাসেও বাঁচে। নানা ঘটনার মধ্যে মানুষ আঁকড়ে ধরতে চায় আত্মবিশ্বাস, পারিবারিক বিশ্বাস, সামাজিক বিশ্বাস এবং রাষ্ট্রীয় বিশ্বাসকে। কিন্তু ঘটমান নানান অঘটন কখনো কখনো বিশ্বাসের ভিত দেয় নাড়িয়ে। তার মধ্যে দাঁড়িয়ে দৃষ্টি বাড়িয়ে যা দেখেছি, যা বুঝেছি তা নিয়ে বিভিন্ন সময় নিজের উপলব্ধির কথা লিখেছি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে। কথায় আছে, ‘নিঃশ্বাসের বিশ্বাস নাই’ অর্থাত্ যে কোন সময়ই নিঃশ্বাস চলে যেতে পারে। কিন্তু বিশ্বাস যখন বারবার অবিশ্বাস্য আঘাতে জর্জরিত হতে থাকে, তখন মনে হয়-বিশ্বাসই যেন আর নিঃশ্বাস নিতে পারছে না। সেই বোধ থেকেই বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত লেখাগুলোর সংকলন ‘বিশ্বাসেরই নিঃশ্বাস নাই’।’ বইটি প্রকাশ করেছে অনন্যা প্রকাশনী। প্রচ্ছদ করেছেন ধ্রুব এষ।

পরিশেষে বলবো, আগে বিভিন্ন উপলক্ষে সবাই সবাইকে বই উপহার দিলেও এখন তাতেও কিছুটা ভাটা পড়েছে। তাই অনুরোধ, ‘আসুন আমরা বই কিনি, বই পড়ি এবং বই উপহার দেই। বই হোক আমাদের নিত্যসঙ্গী’।