ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ খুন

‘খুনের পর দুই গৃহকর্মী বোরখা পরে পালিয়ে যায়’

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:১৯

ইত্তেফাক রিপোর্ট

ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী পারভীন হত্যা মামলার সন্দেহভাজন রুনু আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমণ্ডি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে নিহতের বাসায় রেশমা ও স্বপ্না নামে দুই গৃহকর্মীকে এনে দিয়েছিল। এজাহারভুক্ত আসামি রেশমা ও স্বপ্নাকে ধরতে রুনুকে নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, তাদেরকে এখনও (গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত) গ্রেপ্তার করা যায়নি। ঘটনার পর ওই দুই গৃহকর্মী বোরকা পরে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বেরিয়ে গেছে। তবে তাদের সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। খুব দ্রুতই তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হবে।

গত রবিবার বিকালে এলিফ্যান্ট রোডের সুকন্যা টাওয়ারের   ১৬ তলার নিজের বাসায় খুন হন সরকারি ইডেন মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী পারভীন। তাকে হত্যার পর গৃহকর্মী স্বপ্না ও রেশমা পালিয়ে যায়। পুলিশ খুনি হিসেবে প্রাথমিকভাবে তাদেরকে সন্দেহ করছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ইসমত কাদির গামা বাদী হয়ে রাজধানীর নিউমার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ওই বাসার দুই গৃহকর্মী স্বপ্না ও রেশমার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো একজনকে আসামি করা হয়েছে। তবে রুনু ঘটনার দুইদিন পর গ্রেপ্তার হলেও ঘটনার পরপরই তার অবস্থান জানতো পুলিশ। ঘটনার দিন সাবেক অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী খুন হওয়ার পর রুনুর সঙ্গে পুলিশ ফোনে কথা বলে জানিয়েছিল, ‘মাহফুজা চৌধুরীকে হত্যা করে বাসার মালামাল লুট করে রেশমা ও স্বপ্না পালিয়েছে’। এ খবর শোনার পর রুনু পুলিশের কল কেটে দিয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেয়। সেই থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। এরপর অভিযান চালিয়ে ধানমণ্ডি এলাকা থেকে গতকাল ভোরের দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, রুনু প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, স্বপ্না ও  রেশমা তার মাধ্যমেই ওই বাসায় কাজে যোগ দিয়েছিল। এরপর কেন তারা মাহফুজা চৌধুরীকে হত্যা করে সেটা তার জানা নেই। তবে রুনু এমন বক্তব্য দিলেও পুলিশ মনে করছে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। কারণ, স্বপ্না ও রেশমা গত একমাস ১০ দিন আগে ওই বাসায় কাজে যোগ দেয়। তাদের সঙ্গে বাসার লোকজনের তেমন পরিচয়ই হয়নি। শুধুমাত্র মাহফুজা চৌধুরী তাদের চিনত। বাসার মালিক মাহফুজা চৌধুরীর স্বামী ইসমত কাদির গামা তাদের সম্পর্কে তেমন জানতেন না। এ ব্যাপারে ইসমত কাদির গামা সাংবাদিকদের বলেন, ‘ তারা (স্বপ্না ও রেশমা) আমার বাসায় কাজ করত। ব্যস্ততার কারণে তাদের সম্পর্কে তেমন খোঁজ নেওয়া হতো না। আমার স্ত্রী তাদের দিয়ে বাসার কাজ করাতেন। আমি বাসায় ঢোকার পর অনেক সময় দেখতাম, তারা টিভি দেখছে। এ কারণে তাদের চেহারাটাও আমি ঠিকমত বলতে পারবো না।’

ভবনের ম্যানেজার হেলালউদ্দিন বলেন, গেটে ১২ ঘন্টার শিফটে দুজন করে দারোয়ান থাকে। সিসি ক্যামেরাও আছে। তবে ৩২টি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই-বাছাই করেও স্বপ্না ও  রেশমা কখন বের হয়েছে তা সনাক্ত করা যায়নি। তবে রবিবার বেলা ৩টা ৯ মিনিটে পর পর দুজন বোরকা পরা নারীকে নিয়ে সন্দেহ হয়। তারাই যে স্বপ্না ও রেশমা তা নিশ্চিত হওয়া যায়।  এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, এজাহারভুক্ত দুই গৃহপরিচারিকা স্বপ্না ও রেশমাকে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে অনেকটাই নিশ্চিত হওয়া গেছে।