মুদিদোকানি থেকে মানব পাচারকারী

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২১, ২২:৩৮

সাইফুল ইসলাম ওরফে টুটুল। বাড়ি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কামন্দী গ্রামে। এইচএসসি পাশ টুটুল একসময় ছিলেন মুদি দোকানদার। ঢাকায় নিয়মিত আসা যাওয়া করতেন তিনি। এক পর্যায়ে অধিক অর্থ আয়ের লোভে জড়িয়ে পড়েন মানব পাচার চক্রে।  শুরুতে চক্রের দালাল হিসেবে বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে লোক পাঠানোর কাজ করতেন টুটুল। পরে নিজেই খোলেন তিনটি ওভারসিজ প্রতিষ্ঠান। তবে ঐ তিন প্রতিষ্ঠানের বৈধতা না থাকায় অন্য বৈধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বেকার ও শিক্ষিত অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষকে বিদেশে পাচার করেন তিনি। হাতিয়ে নেন কোটি টাকা। তবে টুটুলের এ প্রতারণার কাজে অন্যতম সহযোগী মো. তৈয়ব আলী চায়ের দোকানদার হলেও পরিচয় দেন স্বনামধন্য এয়ারলাইনসের ম্যানেজার হিসেবে। এর আড়ালে টুটুলের মানব পাচার চক্রের সহায়তায় অসংখ্য মানুষকে প্রতারণার মাধ্যমে বিদেশে প্রেরণ এবং দেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা করে হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা।

মুদি দোকানদার থেকে ওভারসিজ মালিক বনে যাওয়া মধ্যপ্রাচ্যে মানব পাচারকারী চক্রের অন্যতম হোতা টুটুল ও সহযোগী তৈয়বসহ আট জনকে গ্রেফতারের পর চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য জানিয়েছে র্যাব-৪। গ্রেফতার হওয়া বাকিরা হলেন, গোপালগঞ্জের শাহ্ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন লিমন, মেহেরপুরের মো. মারুফ হাসান, জাহাঙ্গীর আলম ও লালটু ইসলাম, শরীয়তপুরের আলামিন হোসাইন, কুষ্টিয়ার আব্দুল্লাহ আল মামুন। গতকাল বুধবার রাজধানীর কাওরান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৪-এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সম্প্রতি কয়েক জন নারী ভিকটিমের অভিভাবকের মধ্যপ্রাচ্যে মানব পাচার সংক্রান্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার  রাত থেকে গতকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত বাড্ডা থানার লিংক রোডে অবস্থিত টুটুল ওভারসিজ, লিমন ওভারসিজ ও লয়াল ওভারসিজে অভিযান চালায় র্যাব। অভিযানে দুই নারীসহ চার জন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ১০টি পাসপোর্ট, সাতটি ফাইল, চারটি সিল, ১৭টি মোবাইল, পাঁচটি রেজিস্টার, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই, দুটি কম্পিউটার, তিনটি লিফলেট ও নগদ ১০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। এ সময় মানব পাচারকারী চক্রের আট সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। মানব পাচার চক্রের অন্যতম সহযোগী শাহ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন লিমন ও মারুফ হাসান ছিলেন বেতনভুক্ত কর্মচারী। জাহাঙ্গীর আলম, লালটু ইসলাম, আলামিন হোসাইন ও আব্দুল্লাহ আল মামুন টার্গেট সংগ্রহ প্রার্থীর  পাসপোর্টের ব্যবস্থা, কথিত  প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, টাকা সংগ্রহ প্রাথমিক মেডিক্যাল সম্পন্ন করাসহ অন্যান্য কাজে সহায়তা করে আসছিলেন।