খন্দকার মোশাররফের এপিএস রিমান্ডে

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২১, ০০:৪১

সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফের এপিএস এ এইচ এম ফোয়াদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। গতকাল বুধবার বিকালে ফরিদপুরের ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক রত্মা সাহা এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ফোয়াদকে আটকের পর ২০১৬ সালের ১২ জুলাই ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা ছোটন হত্যা মামলার আসামি হিসেবে দেখিয়ে ঐ মামলার তদন্তের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায় পুলিশ। সত্যতা নিশ্চিত করে ঐ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল গফফার বলেন, শুনানি শেষে আদালত ফোয়াদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ফোয়াদকে ঢাকার বসুন্ধরা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ব্যাপারে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) জামাল পাশা লিখিত বক্তব্যে বলেন, এ এইচ এম ফোয়াদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং মামলা, মারামারি, হামলা, সরকারি চাল উদ্ধার এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির বাড়িতে হামলাসহ আটটি মামলা রযেছে। এ মামলাগুলোর মধ্যে সাতটি মামলার অভিযোগপত্রের (চার্জশিট) আসামি ফোয়াদ। তিনটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরওয়ানা রয়েছে। একটি মামলায় তার বাড়ির অস্থাবর মালামাল ক্রোক করার পরওয়ানা রয়েছে।

জামাল পাশা বলেন, এ এইচ এম ফোয়াদ দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর যাবত্ ফরিদপুর শহরে হেলমেট বাহিনী, হাতুরি বাহিনীসহ বিভিন্ন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, ভূমি, বাসস্ট্যান্ড ও সিএনবি ঘাট দখলসহ বিভিন্ন সরকারি অফিসে ত্রাস সৃষ্টি করে অঢেল অবৈধ সম্পদ অর্জন করে।

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার দক্ষিণ বিলনালিয়া গ্রামের মৃত মোজহারুল হক চোকদারের ছেলে ফোয়াদ জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১৬ মে রাতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। ১৮ মে মামলা দায়ের করা হয়। ৭ জুন রাতে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু হয়। ঐ রাতে ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি খন্দকার মোশাররফের শহরের বদরপুরস্থ বাড়ি থেকে ফরিদপুরের আলোচিত দুই ভাই শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন ওরফে বরকত এবং ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান ওরফে রুবেলসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ঐদিন অল্পের জন্য গ্রেফতার এড়িয়ে পালিয়ে যান ফোয়াদ।