সোনারগাঁও হোটেল

সিবিএ নির্বাচনে সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষিত

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২১, ০০:৪২

সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে বারবার নির্দেশনা দেওয়ার পরও সোনারগাঁও হোটেল শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন (সিবিএ) নির্বাচন অবৈধভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। শ্রম মন্ত্রণালয় ও শ্রম অধিদপ্তরের নির্দেশনা উপেক্ষা করে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচন আয়োজনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কয়েক দফা পত্র পাঠানোর পরও আমলে নিচ্ছে না বর্তমান মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি। নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে চাইছে বর্তমান নেতৃবৃন্দ। কোনো অবস্থায়ই নির্বাচন করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তারা। এ অবস্থা চলতে থাকলে যে কোনো সময় পাঁচতারকা হোটেলটির পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছেন সাধারণ কর্মচারীরা।

লিখিত এক পত্রে ঢাকার বিভাগীয় শ্রম পরিচালক আবু আশরীফ মাহমুদ নির্বাচন না হওয়ায় সোনারগাঁও হোটেলে বিশৃঙ্খলাসহ শ্রম অসন্তোষের আশঙ্কা করে বলেছেন, সোনারগাঁও হোটেল শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন করার বিষয়ে শ্রম দপ্তরের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তা প্রতিপালিত হচ্ছে না।

হোটেলের শ্রমিক-কর্মচারীরা জানান, গত ৯ এপ্রিল বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়। নিয়ম অনুযায়ী এর এক মাস আগে বার্ষিক সাধারণ সভায় নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হয়। এজন্য গত ৪ ফেব্রুয়ারি নোটিশও জারি করে কমিটি, কিন্তু সভার দিন দুপুরে অনিবার্য কারণ দেখিয়ে তা স্থগিত করা হয়। এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিলে শ্রম পরিচালকের এক চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ১০ মার্চ আবারও সভা আহ্বান করেন ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ। পরে ঐ সভাও পিছিয়ে দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ২৮ মার্চ শ্রম মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক নাজিম আহমেদ ও শ্রম কর্মকর্তা হাসান আসকারের উপস্থিতিতে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে হোটেল সোনারগাঁওয়ের প্রায় ৩০০ শ্রমিক-কর্মচারী সদস্যের মধ্যে ১৪০ জন উপস্থিত ছিলেন। এরপর পূর্ণাঙ্গ কমিশন গঠন নিয়ে গড়িমসি শুরু করে কমিটি। এই পরিস্থিতিতে কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় সাত দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন কমিশন গঠন করতে গত ২৪ আগস্ট চিঠি দেন ঢাকা বিভাগের শ্রম পরিচালক। ছয় দিনের মাথায় কমিটির সভাপতি মো. সামিম ও সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. শাহীন চিঠির উত্তর দেন। করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর হারকে ‘ঊর্ধ্বমুখী’ উল্লেখ করে সময় চাওয়া হয় সাধারণ সভার জন্য। পরে শ্রম পরিচালক আবারও তিন দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন কমিশন গঠনের সময় দিয়ে গত ১ সেপ্টেম্বর একটি চিঠি ইস্যু করেন। এর পরও নির্বাচন কমিশন গঠিত না হওয়ায় গত ৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর পুনরায় চিঠি দেয় শ্রম দপ্তর। শ্রম দপ্তরের একটি প্রতিনিধিদল মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির নেতা ও হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও দেখা করে দ্রুত নির্বাচনের তাগিদ দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ অক্টোবর বিভাগীয় শ্রম পরিচালক আবু আশরীফ মাহমুদ সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসেন। ঐ সভায় ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীন উল্লেখ করেন, বর্তমান পর্যটন সচিব বলেছেন, হোটেলে কোনো নির্বাচন ও সভা-সমাবেশ করা যাবে না। সচিবের বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করার কারণে বৈঠক ভেস্তে যায়। তবে সভা থেকে অক্টোবরের মধ্যে সাধারণ সভা দিয়ে নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেটিও বাস্তবায়নে এখনো পর্যন্ত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেনি মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি। সর্বশেষ মঙ্গলবার হোটেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির কেউই যাননি। তারা এমডিকে জানিয়ে দেন, আপাতত নির্বাচন করা সম্ভব নয়।

শ্রমিক-কর্মচারীরা আরো বলেন, হোটেলের ব্যবসা স্বাভাবিক। করোনার কোনো প্রভাব নেই। অযথা নির্বাচন আটকে রাখার মানে হয় না। নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সম্পূর্ণ দায় ভারপ্রাপ্ত জিএম ও বর্তমান কমিটির।

হোটেলের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচন নিয়ে হোটেলের এমডি ও ভারপ্রাপ্ত জিএমের সঙ্গে মতবিরোধ রয়েছে। এমডি নির্বাচন চাইলেও জিএম চান না। বর্তমান ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হোটেলের ভারপ্রাপ্ত জিএমের আর্শীবাদপুষ্ট। ঐ ভারপ্রাপ্ত জিএমের মোবাইল ফোনে একাধিবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি মো. শামীম ইত্তেফাককে বলেন, ‘করোনার কারণে যথাসময়ে নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি বুঝে নির্বাচন দেওয়ার চেষ্টা করব।’

হোটেলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আমিনুর রহমান বলেন, শ্রম অধিদপ্তরের কয়েক দফা নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত নির্বাচন করতেই হবে। নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। এছাড়া করোনার অজুহাত দেখিয়ে আর নির্বাচন পেছানোর সুযোগ নেই।