প্রি য়াঙ্কা। হ্যাংলা-পাতলা গড়নের অনিন্দ্য সুন্দরী মেয়ে। অল্প বয়স থেকেই তার কাছে শত শত প্রেমের প্রস্তাব আসতে থাকে। সে তার রূপের ওজন জানে, এজন্য কারো প্রস্তাবেই সায় দেয় না। প্রেমপ্রার্থীদের হূদয় ভাঙে, প্রিয়াঙ্কাকে বশে আনার কোনো ম্যাজিকও খুঁজে পায় না কেউ। সবাই আস্তে আস্তে বুঝে যায় প্রিয়াঙ্কা দূর আকাশের চাঁদ, দেখা যাবে, কাছে যাওয়া যাবে না। এভাবে ক্রমশ তার থেকে দূরে সরে যেতে থাকে অসংখ্য ছেলে। সরতে সরতে প্রিয়াঙ্কার প্রেম-প্রার্থীর সংখ্যা একেবারে শূন্যের কোঠায় চলে যায়। প্রেমিকের সংখ্যা কমে যাচ্ছে দেখে প্রিয়াঙ্কার মধ্যেও টেনশন শুরু হয়।
‘তবে কি আমি ফুরিয়ে যাচ্ছি?’ নিজের মনে কথা বলে প্রিয়াঙ্কা। আয়নার সামনে দাঁড়ায়। চেহারা কি তার খারাপ হয়ে যাচ্ছে? কই, না তো!
তার এই বিষণ্নতার সময়কেই কাজে লাগায় পাশের গ্রামের কিংশুক। কাছে এসে দরদি সুরে বলে—‘কী রে, এই কদিনে এমন রোগাটে হয়ে পড়েছিস কেন? শরীর খারাপ নাকি?
—আরে না। আমি তো ভালোই আছি। তবে কেন জানি একটু টেনশনে ভুগছি।
—তুই টেনশনে আছিস? আমিও টেনশনে আছি রে!
প্রিয়াঙ্কা অবাক হয়ে বলে, কীসের টেনশন?
কিংশুক বলে, চাঁদে জমি কিনব একখণ্ড। অ-নে-ক টাকা লাগবে। ইতিমধ্যে অবশ্য নব্বই ভাগ টাকাই রেডি করে ফেলেছি। দেড়-দুই লাখ টাকার ব্যবস্থা করতে পারলেই কেল্লাফতে। চাঁদের বুকে থাকবে আমার নিজস্ব জমি। কী মজা! আর শোনো, মন ফ্রেশ করো। এই জমির পুরোটাই তোমার নামে লিখে দেব, ভেবে দেখো...।’
—ওয়াও! কী শোনালে তুমি? আমি কি এতোই ভাগ্যবতী?
ইদানীং ফেইসবুকজুড়ে চলছে চাঁদের বুকে জমি কেনার রগরগে গপ্পো! অনেকেই তার স্ত্রী কিংবা প্রেমিকাকে জমি কিনে দিচ্ছে। প্রিয়াঙ্কা সে কথা জানে।
কিংশুকের প্রেমের ভাগ্যের শিকে ছিঁড়ল। মনে হচ্ছে চাঁদ দিয়ে চাঁদ কিনল সে।
[সিলেট]
