যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোর দারুণ রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ার কারণে এদেশের অন্যান্য রাজ্যের অনেকেই ছুটে আসেন এই শহরে। বিশেষ করে শীত মৌসুমে। দারুণ সূর্যের আলোঘেরা অক্টোবরের এই সময়টাতেও রোদ আর মেঘের খেলা করছে যখন। ঠিক সে সময় টানা কয়েকদিন ব্যাপী মিল ভ্যালি ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নগরের সিটিবাসের পেছনে বিজ্ঞাপনের অংশে এই ঐতিহ্যবাহী ফেস্টিভ্যালের ক্যাম্পেইন দেখা যাচ্ছে।
স্বাভাবিকভাবে এবারের ফেস্টিভ্যালটি বিশেষ কৌতুহল জোগায়, কারণ এবারের মিল ফেস্টিভ্যালে প্রথম বাংলাদেশি নির্মাতার কোনো ছবি প্রদর্শিত হচ্ছে। টানা দু’দিন দুটি শো অনুষ্ঠিত হলো। দ্বিতীয় দিনের শো শেষে অনেকেই নানা কৌতুহল নিয়ে প্রশ্ন করলেন নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরীকে। সাবলীলভাবে অমিতাভ তার ছবি রিকশাগার্ল নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেন। প্রতিটি প্রশ্নের জবাবেই যেন বাংলাদেশ প্রসঙ্গটি ছিল। প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে অমিতাভকে জিজ্ঞেস করলাম, কোন প্রশ্নটি সবচেয়ে ভালো লাগলো? অমিতাভ রেজা চৌধুরী বললেন, ‘দেখুন, আমার সবচেয়ে ভালোলাগার বিষয় ছিল বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মী আর ফিল্ম ক্রিটিকদের ভেতরে যে বাংলাদেশ নিয়ে কৌতুহল, নভেরার অভিনয় নিয়ে মুগ্ধতা। দেশের প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রশ্ন করেছে অনেকেই।’ ভারতীয় বংশোদ্ভুত মিতালি পারকিনসের লেখা গল্প থেকে তৈরি ‘রিকশাগার্ল’। ছবিটির রাইটার যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রানসিসকোতেই বড় হয়েছেন তাই আমি নিজেও চেয়েছিলাম ছবিটি এই শহর থেকেই যাত্রা শুরু করুক। তবে মিতালির গল্পের বইটি ছিল খুবই ছোট, যা সিনেমার ব্যাপ্তির জন্য ঠিক ছিল না। তাই বাকি চিত্রনাট্য, দৃশ্যায়ন ভাবনা আমার তৈরি করতে হয়েছে।’
মাত্র দুটি প্রদর্শনীতে অমিতাভ রেজার রিকশাগার্ল ছবিটি এখানে বেশ ক’জন ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে দারুণ কৌতুহল তৈরি করেছে। মার্কিন এক নাগরিক প্রদর্শনীতে আমন্ত্রিত দর্শক হিসেবে ছবিটি দেখে মন্তব্য করতে গিয়ে বললেন, ‘ছবিটি আমার মনকে নাড়া দিয়েছে। কিছু কিছু দৃশ্য বর্ণনা সত্যিই অসাধারণ। এমন গল্প দেখে সে দেশে যেতে ইচ্ছে করছে। ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্রের মেয়েটি অসাধারণ অভিনয় করেছে।’
প্রদর্শনীতে উপস্থিত সকলেই ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্র নভেরাকে খুঁজেছেন। দেশীয় দর্শকদের অধিকাংশের কৌতুহল ‘রিকশাগার্ল’ ছবিটি কবে বাংলাদেশের সিনেমাহলে মুক্তি হবে। তবে তার আগে জানা গেল আমেরিকান এই ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শনের পর ছবিটি জার্মান ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শিত হবে। আর দেশে রিকশাগার্ল ছবিটি দেখার জন্য আরো কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে বলে জানালেন নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরী। নির্মাতা বলেন, ‘যেহেতু মিল ভ্যালি ফেস্টিভ্যাল থেকে শুরু করে ছবিটির অরিজিনাল ল্যাঙ্গুয়েজ ইংরেজি। কারণ এটি কোনো জয়েন্ট ভেঞ্চারের ছবি না। ছবিটি আমেরিকান প্রযোজকের ছবি। তাই ছবিটি বাংলায় ডাব করে রিলিজ দেওয়া হবে। এছাড়াও আনুষাঙ্গিক কিছু বিষয়ের জন্য সময় লাগবে। তাই আগামী বছর ছবিটি বাংলাদেশে রিলিজ দেবো।’
রিকশাগার্ল ছবিটি প্রসঙ্গে বায়োস্কোপ ফিল্মসের কর্ণধার রাজ হামিদ বলেন, ‘আমার কাছে অমিতাভ ভাইয়ের প্রতিটি কাজই মুগ্ধ করেছে। তার ছবির যে সিনেমাটোগ্রাফি এক কথায় অসাধারণ। তুলনা হয় না। আমরা সকলেই মূলত বাংলা চলচ্চিত্রকে সারাবিশ্বে একটা মর্যাদার জায়গায় নিয়ে যেতে চাই। সেক্ষেত্রে অমিতাভ ভাইয়ের এই রিকশাগার্ল ছবিটি আরো একটা নতুন অধ্যায় হিসেবে কাজ করবে।’ আমেরিকান প্রযোজক ও পরিবেশকের নির্মাণে এই ছবিটি নিয়ে মার্কিন এক তরুণ ফিল্মমেকার রোজারিও বলেন, ‘অমিতাভ তার ছবির স্টোরি টেলিংটা অসাধারণ করেছে। বাংলাদেশি নির্মাতার কোনো ছবি এই প্রথম আমার দেখা। এবং আমি অভিভূত। আমি আজকেই গুগলে সার্স করে এই নির্মাতার ছবিগুলো দেখে নেব।’ ছবিটি প্রসঙ্গে নির্মাতা আরো বলেন, ‘যারা আমার প্রথম ছবি আয়নাবাজির সঙ্গে এটা মেলাবেন, তারা ভুল করবেন। দুটো ছবির ঢং একেবারেই আলাদা। সেভাবেই তৈরি করার চেষ্টা করেছি।’ উল্লেখ্য, ভারতীয় বংশোদ্ভুত মার্কিন লেখিকা মিতালি পারকিনসের ‘রিকশাগার্ল’ উপন্যাস অবলম্বনে সিনেমাটির চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন শর্বরী জোহরা আহমেদ ও রফিক আমিন। শর্বরী জোহরা আহমেদ প্রিয়াঙ্কা চোপড়া অভিনীত যুক্তরাষ্ট্রের টিভি সিরিজ ‘কোয়ান্টিকো’র অন্যতম চিত্রনাট্যকার। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন এনরিক জে অ্যাডামস, ফরিদুর রেজা সাগর ও জিয়াউদ্দিন আদিল।
