উত্তর কোরিয়ায় অনাহারের ঝুঁকিতে শিশু ও বয়স্করা

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২১, ২০:২৯

উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে দুর্বল শিশু ও বয়স্করা অনাহারের ঝুঁকিতে আছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষজ্ঞ টমাস ওহেয়া কিন্টনা। তিনি দেশটিতে এই খাদ্যসংকট সৃষ্টির জন্য আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং কোভিড-১৯ মহামারির কারণে আরোপিত বিধিনিষেধকে দায়ী করেছেন।

টমাস বলেন, ‘সাধারণ উত্তর কোরীয়রা মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য দৈনন্দিন সংগ্রাম করছে।’ সংকট এড়াতে তিনি উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর আরোপ করা জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশটিকে বর্তমান অবস্থা থেকে রক্ষা করা না গেলে পরিস্থিতি সামনে আরো ভয়াবহ হবে। কেননা এমনিতেই সেখানকার দুর্বল অর্থনীতি এর ওপর করোনা সবকিছু স্থবির করে দিয়েছে। মানুষের আয় অনেক কমে গেছে। বিশেষ করে যারা চীনসংলগ্ন সীমান্তে বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল তারা বেশি সমস্যায় পড়েছে। উত্তর কোরিয়া খাদ্য, সার এবং জ্বালানির জন্য চীনের ওপর নির্ভরশীল। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং-উন এ সপ্তাহে স্বীকারও করেছেন যে, খুবই খারাপ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তারা। তিনি সরাসরি কিছু না বললেও বোঝা যাচ্ছে যে, তাদের অর্থনীতির করুণ অবস্থা। সেখানে প্রতিনিয়ত খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। এনকে নিউজ গত জুনেই ১ কেজি কলার দাম ৪৫ ডলার বলে জানিয়েছিল।

উত্তর কোরিয়ার মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ টমাস তার সর্বসাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলেছেন, ‘জাতিসংঘের উচিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়টিতে নজর দেওয়া এবং মানবিক ও জীবনরক্ষাকারী সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা।’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বরাবরই বলে এসেছেন তিনি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা করতে প্রস্তুত। তবে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের আগে উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক অস্ত্র পরিহার করতে হবে বলে তিনি শর্ত দিয়েছেন। উত্তর কোরিয়া এ পর্যন্ত তা করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে এসেছে।