স্কুল খোলার অনুভূতি

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২১, ২০:৫৮

স্কুল খোলার কথা শুনে মন খুলে আকাশে ওড়ার জোগাড় করলাম। এমন সময় বাবা যে কথাটা বললেন, সেটা শুনে আকাশে উড়তে উড়তে টপ করে নিচে পড়লাম। বাবা বললেন, সপ্তাহে একদিন ক্লাস। যা-ই হোক, মনে হয় শত বছর পর স্কুল খুলবে। এতদিন চার দেয়ালে আটকে ছিলাম। এইতো সেদিনও শুয়ে বসে সময় কাটাচ্ছিলাম। স্কুল খোলার আনন্দে রাতের ঘুম ভালো হলো না। সকালবেলা উঠে স্কুলে যাওয়ার সময় রাস্তায় ছাত্র-ছাত্রীদের হাঁটাচলা দেখে মনটা ভরে গেল। ক্লাসরুমে বসে আছি। বেঞ্চের উপর নজর পড়ল। লক্ষ করলাম, এটি তো সেই বেঞ্চ নয়। যে বেঞ্চে আমার আর আমার বন্ধুদের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। আমি একটু তাড়াতাড়ি এসেছি। স্কুলটা ঘুরে দেখলাম। বেশ পরিবর্তন হয়েছে। আশপাশের গাছপালা বড় হয়ে গেছে। মাঠের বড় একটি অংশজুড়ে এখন ছায়া পড়ে। আমি ক্লাসে ঢুকলাম। ঢুকে দেখি আমার ব্যাগের পাশে একটা ব্যাগ। এই ব্যাগটা আমার বেশ চেনা। হঠাত্ একটা মেয়ে এল। মাস্কের আড়ালে তার মুখ দেখতে পেলাম না। তবে কথা যখন বলল, তখন আমি ঠিকই চিনতে পারলাম। আরে এ তো আমার বন্ধু চম্পা। কতদিন পর আবার দেখা, তবে খুব কাছাকাছি হতে পারিনি। হাত ধরতেও পারলাম না। ওর সাথে অনেক কথা ছিল। কিন্তু বলতে পারলাম কই? ঘণ্টা বাজল। আজ ক্লাস করার চেয়ে লকডাউনে কীভাবে সময় কাটালাম সেই কথাই বেশি হলো। দীর্ঘ ছুটির পর স্কুলের প্রথম দিন আমার কাছে খুবই ভালো লাগল। তবে বন্ধুদেরকে জড়িয়ে ধরতে পারিনি। মনের মধ্যে একটা অতৃপ্তি রয়ে গেল। মহামারির জন্য অনেক ক্ষতি হলো। দেড়টা বছর হারিয়ে গেল। ঝরে পড়ল অসংখ্য শিক্ষার্থী। বদলে গেল পুরো পৃথিবীটা। সব কিছু একদিন হয়তো ঠিক হয়ে যাবে। শুধু সময় লাগবে ক্ষতগুলো সারতে। ক্ষতি এবং ক্ষত অবশ্য ভুলে যাওয়ার নয়। তবু শিক্ষার ক্ষতিটা পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করব। মহামারি জয় করে আগামী দিনের জন্য তৈরি হব। তৈরি হব ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে। এগোব সবাইকে সঙ্গে নিয়ে, পরিশ্রম দিয়ে আর আত্মবিশ্বাস নিয়ে।

 

ষষ্ঠ শ্রেণি, শিকারপুর জি জি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উজিরপুর, বরিশাল