ঝিনাইদহের শৈলকুপা হাটে গত কয়েক দিনের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম মণপ্রতি কমেছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। কেজিপ্রতি কমেছে ১০ থেকে সাড়ে ১২ টাকা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত খরিপ মৌসুমে এ জেলায় ১০ হাজার ৪৭২ হেক্টরে পেঁয়াজের চাষ হয়। মোট পেঁয়াজ উত্পাদনের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৯০ হাজার ৭৬৮ টন। শৈলকুপা উপজেলাতেই ৭ হাজার ৮৯০ হেক্টরে পেঁয়াজের চাষ হয়েছিল। উত্পাদনের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৪০ হাজার ২৪২ টন। মার্চের শেষে হালি পেঁয়াজ উঠতে শুরু করে। তখন প্রতি মণের দাম ২ হাজার টাকার ওপরে ছিল। পরে দাম কমে ৯০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা প্রতি মণ বিক্রি হয়। এরপর দাম ওঠা-নামা করতে থাকে। চার দিন আগেও প্রতি মণ ২ হাজার ২০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা দরে কেনাবেচা হচ্ছিল। মঙ্গলবার হাটে দাম কমে ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা দরে কেনাবেচা হয়।
চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখনো চাষির ঘরে অনেক পেঁয়াজ মজুত আছে। আবার ব্যবসায়ীদের গুদামেও প্রচুর পেঁয়াজ মজুত আছে। শৈলকুপা উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের চাষি ইসরাইল হোসেন বলেন, গত মৌসুমে ১৫ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেন। দেড় হাজার মণ পেঁয়াজ হয়। নতুন পেঁয়াজ ওঠার পর প্রতি মণ ১ হাজার টাকা থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা দরে বিক্রি করেন। মঙ্গলবার শৈলকুপা হাটে সাড়ে পাঁচ মণ পেঁয়াজ ১ হাজার ৯৫০ টাকা দরে বিক্রি করেন। এখনো ঘরে ১০০ মণ পেঁয়াজ মজুত আছে। চাষির ঘরে মজুত পেঁয়াজ ওজনে কমে গেছে। অনেক পেঁয়াজ পচে গেছে। এর চেয়ে দাম কমে গেলে লোকসান হবে। একই গ্রামের মশিউর রহমান বলেন, সাড়ে ৯ মণ পেঁয়াজ ২ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করেন।
হাকিমপুর গ্রামের চাষি রেজাউল করিম বলেন, গত মৌসুমে চার বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেন। বিঘাপ্রতি ৮০ মণ করে ফলন পান। মঙ্গলবার শৈলকুপা হাটে ১ হাজার ৯০০ টাকা দরে ২ মণ পেঁয়াজ বিক্রি করেন। এখনো তার ঘরে ১০ মণ পেঁয়াজ মজুত আছে। শৈলকুপা মোকামের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, চার দিনের ব্যবধানে প্রতি মণ পেঁয়াজের দাম ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঝিনাইদহের উপ-পরিচালক মো. আজগর আলি বলেন, শৈলকুপা উপজেলায় চাষির ঘরে ও ব্যবসায়ীর গুদামে অনেক পেঁয়াজ মজুত আছে। আর আগাম জাতের মুড়িকাটি পেঁয়াজের চাষ শুরু হয়ে গেছে। ডিসেম্বর মাসে এ পেঁয়াজ উঠতে শুরু করবে।
