মালদ্বীপে বাংলাদেশের ফুটবলারদের মন ভালো নেই। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, খেলোয়াড়রা রুমবন্দি ছিলেন। খাওয়া-দাওয়া করতেও তারা রুম হতে বের হতে চাচ্ছিলেন না। বিষণ্ন মন, জানালেন তপু বর্মন। তিনি বললেন, ‘রেফারি যা করার উনি করে দিয়েছেন। আমরা প্লেয়াররা সর্ব শক্তি দিয়ে খেলেছি। গোলও করেছি। যদি এমন হতো গোল করিনি। গোল খেয়েছি তাহলে বলতে পারতেন। ম্যাচটা নিয়ে রেফারি যা করলেন তা আর বলে কী হবে। দেশের মানুষ দেখেছেন, আমাদের কাজ আর রেফারির কাজ ছিল।’
সাফের ফাইনালে যেতে হলে নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশকে জিততে হতো। আর নেপালের দরকার ছিল ড্র। সেই ম্যাচ বাংলাদেশ ৯ মিনিটে গোল করে এগিয়ে থাকার পরও ড্র (১-১)। লালকার্ড দেখে মাঠ হতে চলে যেতে হয়েছে গোলকিপার আনিসুর রহমানকে আর শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি পেয়ে নেপাল ম্যাচটা ১-১ গোলে ড্র করে ফাইনালে উঠে যায়। বাংলাদেশকে জয় বিঞ্চত করেছেন উজবেকিস্তানের রেফারি আর আখরল। ১৬ বছরের চেষ্টার সব পরিশ্রম ধুলিস্যাত্ করে দিয়েছেন উজবেকিস্তানের রেফারি এমনটাই মালদ্বীপে ফুটবল শিবিরে উচ্চারিত হচ্ছে।
মালদ্বীপ হতে জাতীয় দলের ফুটবলার তপু বর্মন বলছেন, ‘লালকার্ড মেনে নিলাম। কিন্তু পেনাল্টির সিদ্ধান্ত কীভাবে মেনে নেব। অযথা পেনাল্টি দেওয়া হয়েছে। যেখানে স্পর্শই হয়নি সেখানে পেনাল্টি হয় কীভাবে।’ যুক্তি আছে তপুর। তার কথা, ‘বল খেলোয়াড়দের মাথার ওপর দিয়ে চলে যাচ্ছে বাইরে। এমন না যে, বল নেপালের প্লেয়ারের পায়ে এবং নিশ্চিত গোল হতে যাচ্ছে। বাইরে যাওয়া বল দেখেই পেনাল্টির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ধাক্কা লাগলে পেছন থেকে লাগবে। পেছনে ছিলেন সাদ উদ্দিন, কার্ড পাবেন তিনি। রেফারি কার্ড দিয়েছেন বিশ্বনাথকে।’
জিকোর লালকার্ড নিয়ে তপুর দাবি, ‘জিকো বক্স ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন দলের প্রয়োজনে। বল জিকোর পায়ে লাগার পর হাতে লাগে। এটাকে পেনাল্টি দিয়েছেন রেফারি। নেপাল কোনো ব্রিলিয়ান্ট গোল করেনি। আমরা যদি গোল করতে না পারতাম হেরে যেতাম তাহলে কথা ছিল। আমরা গোল করেছি। কিন্তু রেফারি যেটা করেছেন তা সবাই দেখেছেন। তাই বলছি রেফারির দোষ দিয়ে লাভ নেই।’
সুমন রেজা গোল করার পরও গোলের সুযোগ ছিল। তপু বললেন, ‘সুমন ভুল করেছে, ওর মাথায় যদি ব্রেইন থাকত তাহলে নিজে শট না করে ইব্রাহিমকে দিলে ম্যাচটায় নেপাল আর ঘুরে দাঁড়াতে পারত না।’
