কুমিল্লার ঘটনায় দায়ীদের এমন শাস্তি হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ সাহস না পায় :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২১, ২৩:০৯

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কুমিল্লার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের কাউকে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তারা যে ধর্মেরই হোক না কেন, বিচারের আওতায় আনা হবে। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপে ভক্তদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় কুমিল্লার ঘটনায় সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ব্যাপারে ব্যাপক তদন্ত চলছে। দোষী ব্যক্তিদের আমরা খুঁজে বের করবই। ঘটনায় জড়িতরা যে-ই হোক না কেন কিংবা যে ধর্মের হোক না কেন, কোনোভাবেই তারা রেহাই পাবে না। এমন শাস্তি দেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে সাহস না পায়।

আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আরো বলেন, ‘কুমিল্লার ঘটনায় কারা জড়িত তা প্রযুক্তির এই যুগে বের করা খুব কঠিন নয়। কিছু মানুষ আছে, যারা চেষ্ট করে যা কিছু সুন্দরভাবে চলছে তা নষ্ট করার। বাংলাদেশ যখন উন্নয়নের পথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, এই যাত্রাটাকে ব্যাহত করার চেষ্টায় আছে কারা তা জানতেই হবে।’

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হিন্দু ধর্ম কল্যাণ ট্রাস্ট আইন আমরা করে দিয়েছি। এই তহবিলে ১০০ কোটি টাকা আমরা দিয়েছি। আপনাদের অনেকে অর্থ ও সম্পদশালী আছেন। তারা পূজামণ্ডপ করতে গিয়ে কোটি কোটি টাকা খরচ করেন। এত টাকা খরচ না করে আপনারা কল্যাণ ট্রাস্টে অনুদান দিতে পারেন। তাহলে ট্রাস্টের ফান্ড বড় হবে।’ প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে এ বছর পূজায় ৩ কোটি টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান।

তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালে ঢাকেশ্বরী মন্দির ধ্বংস করা হয়েছিল। আমরা ঐ মন্দির পরে তৈরি করে দিই। এই মন্দিরের উন্নয়নকাজ এখনো চলমান রয়েছে।’

সারা দেশে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বলেন, ‘দেখা যায়, দুর্গাপূজার সময় সর্বজনীন পূজামণ্ডপ হয়, আবার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনেক পূজামণ্ডপ হয়। বছর বছর এই পূজামণ্ডপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আপনারাই বলেছেন, ৩২ হাজার ১১৮টি মণ্ডপে এবার দুর্গাপূজা হচ্ছে। এটা খুবই ভালো কথা। কিন্তু একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে, আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতিটি জায়গায় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হয়। এক্ষেত্রে সর্বজনীন পূজামণ্ডপগুলোতে কোনো অসুবিধা হয় না। কিন্তু অস্থায়ী মন্দিরগুলোতে পূজা হলে কিছু লোক সুযোগ পায় সেখানে সমস্যা সৃষ্টি করার। কাজেই এ ক্ষেত্রে আপনাদের পক্ষ থেকে কিছুটা বোধহয় নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। আর এই ব্যবস্থা কিন্তু ভারতে আছে। সেখানে সরকারের অনুমোদন ছাড়া নতুন করে পূজামণ্ডপ করতে পারে না। কিন্তু আমাদের এখানে স্বাধীনতা আছে। আপনারা করতে পারেন। কাজেই বলব যে, এ ব্যাপারে আপনারাই পদক্ষেপ নেন। বিশেষ করে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের পক্ষ থেকে একটি নীতিমালা বা নির্দেশনা থাকা দরকার, কতটা পূজামণ্ডপ হবে। এটা সীমিত হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়ে সুবিধা হয়।’

পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা দিতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়ে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বলব, যার যার এলাকায় যেখানে পূজা হচ্ছে, প্রত্যেকে যেন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে। সবার সঙ্গে মিলে যেন শান্তিপূর্ণভাবে পূজা হয়, সেই ব্যবস্থা করবে। সেটা নিশ্চয়ই তারা করবেন এবং করে থাকেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘গতবার করোনার কারণে পূজা সীমিত হয়েছিল। এবার একটু উত্সাহ পেয়ে বেশি বেড়ে গেছে। এবার ১ হাজার ৯০৫টি অতিরিক্ত পূজামণ্ডপ তৈরি হয়েছে।’

পঁচাত্তরের পরে বিএনপি ধর্মের নামে বিভেদ ও দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করেছিল অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সারা বিশ্বে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস বৃদ্ধি পাওয়ায় তার একটি প্রভাব এসে পড়েছে। এ জন্য কেবল আমাদের নিজেদের দেশই নয়, প্রতিবেশী দেশকেও এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে। সচেতন থাকতে হবে। প্রতিবেশী ভারত আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় সহযোগিতা করেছে। তাদের কথা আমরা সব সময় কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি। কাজেই সেখানে এমন কিছু যেন না করা হয়, তার প্রভাব আমার দেশে এসে পড়ে। আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আঘাত আসে। এজন্য তাদেরও একটু সচেতন থাকতে হবে। আমি চাই, আমাদের দেশে মানুষ সুন্দরভাবে জীবন যাপন করবে। সব ধর্মের মানুষ তার ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করবে।’

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা কখনোই নিজেদের সংখ্যালঘু ভাববেন না। আমরা আপনাদের সংখ্যালঘু নয়, নিজেদের আপনজন হিসেবে মানি। এ দেশের নাগরিক হিসেবে মানি। সম-অধিকারের সঙ্গে এই দেশে বসবাস করবেন। সবাই সমান অধিকার ভোগ করবেন।’

মহানগর সর্বজনীন পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী পূর্ণাত্মানন্দ মহারাজ, মহানগর সর্বজনীন পূজা উদ্যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক কিশোর রঞ্জন মণ্ডল।