তৃতীয় ধাপে ১ হাজার ৭টি ইউনিয়ন পরিষদ ও অষ্টম ধাপে ১০ পৌরসভার তপশিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী আগামী ২৮ নভেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন আগামী ২ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ৪ নভেম্বর ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১১ নভেম্বর। চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ ও প্রচার শুরু হবে আগামী ১২ নভেম্বর থেকে। গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন সভা শেষে এ তপশিল ঘোষণা করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনের পৃথক তপশিল ঘোষণা করা হয়। তবে ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে ১০টি পৌরসভার নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা, বাছাই, প্রত্যাহারের শেষ সময় একই রকম রাখা হয়েছে।
তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ ও অষ্টম ধাপের পৌরসভা নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা শেষে নির্বাচন কমিশন সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেন, নির্বাচন কমিশন সাধারণত পাবলিক পরীক্ষা হিসেবে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়টি আমলে নিয়ে তপশিল নির্ধারণ করেছেন। তবে নির্বাচনের কারণে বার্ষিক পরীক্ষার সমস্যা হবে না। স্কুলগুলো ভোটের তারিখের সঙ্গে বার্ষিক পরীক্ষা সমন্বয় করে নেবে।
এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার সভাপতিত্বে কমিশনের ৮৭তম সভায় এসব নির্বাচনের তপশিল অনুমোদন করা হয়। ঐ সভায় চার কমিশনার, ইসি সচিব, অতিরিক্ত সচিব, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। প্রসঙ্গত আগামী ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপে ৮৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদের ভোট হবে। তৃতীয় ধাপের ভোট হবে ২৮ নভেম্বর।
কমিশন সভার সিদ্ধান্তের বিষয় জানিয়ে ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেন, সিইসি ও চার কমিশনারের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ ও অষ্টম ধাপের পৌরসভা নির্বাচনের তপশিল অনুমোদন করা হয়। ১০টি পৌরসভা ও ৩১টি ইউনিয়ন পরিষদে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ করা হবে। যেসব জায়গায় ইভিএম খুব কম ব্যবহার করা হয়েছে, সেসব জায়গা জনগণকে এ মেশিনের সঙ্গে পরিচিত করতে বেছে নেওয়া হয়েছে।
কোন ইউনিয়ন পরিষদ কোন ধাপের অন্তর্ভুক্ত হবে সেই প্রক্রিয়া সম্পর্কে ইসি সচিব বলেন, অনেকগুলো ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করব। আমাদের হাতে ৩ হাজার ৭০০ ইউনিয়ন পরিষদের তালিকা প্রস্তুত আছে। ইতিমধ্যে ১ হাজার ২০০ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করা হয়েছে। কমিশন ডিসেম্বরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করবে। সেই বিবেচনায় তালিকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন এক স্বাধীন সত্তা, স্বাধীনভাবে কাজ করেন। নির্বাচন কমিশনারগণ যেটা ভালো মনে করেন, সেভাবে সিদ্ধান্ত নেন।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন কবে হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেন, এ নির্বাচনের বিষয়ে কমিশনের এই সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। কমিশনের সিদ্ধান্ত রয়েছে, বর্তমান কমিশনই এ সিটি করপোরেশন নির্বাচন করবে। তবে কখন ভোট হবে তা নির্বাচন কমিশন নির্ধারণ করবে।
জাতীয় পরিচয়পত্র কবে নাগাদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যেতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে দুটি কমিটি (কারিগরি ও আইন সংশোধন সংক্রান্ত) কাজ করছে। তারা কাজ শেষ করার পর এ বিষয়টি দেখা যাবে। তিনি বলেন, ১৬ বছর বয়সি নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন কমিটি কাজ করছে। যে কোনো সময়ে এ বিষয়ে কমিশনে আলোচনা হতে পারে। আমরা প্রস্তুত আছি। নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ ব্রিফিংয়ে ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ, এনআইডি ডিজি এ কে এম হুমায়ুন কবীর, যুগ্মসচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান ও জনসংযোগ পরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
১০ পৌরসভায় ভোট ২৮ নভেম্বর
অষ্টম ধাপে ১০টি পৌরসভা নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, আগামী ২৮ নভেম্বর ১০টি পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই ধাপে অনুষ্ঠিত সব কয়টি পৌরসভায় ইভিএমে ভোট নেওয়া হবে। ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, আগামী ২ নভেম্বর পৌরসভা নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ৪ নভেম্বর, প্রত্যাহারের শেষ সময় ১১ নভেম্বর। যে ১০ পৌরসভায় নির্বাচন হবে—লক্ষ্মীপুর জেলার লক্ষ্মীপুর সদর, পাবনা জেলার বেড়া পৌরসভা, নোয়াখালী জেলার সেনবাগ, রংপুর জেলার পীরগঞ্জ, পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা, টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল, সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ, মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল, গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর এবং নীলফামারী জেলার নীলফামারী সদর পৌরসভা।
