সম্পত্তি না দেওয়ায় বাবা-মা ভাইকে গলা কেটে হত্যা!

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২১, ২৩:১৬

মিরসরাইয়ে পারিবারিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করায় বাবা মো. মোস্তফা (৫৬), মা জোস্নে আরা (৪৫) ও মেজো ভাই আহমদ হোসেনকে (২৫) গলা কেটে হত্যায় জড়িত সন্দেহে বড় ছেলে সাদেক হোসেন সাদ্দামকে (৩০) আটক করেছে জোরারগঞ্জ থানাপুলিশ। বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার ৩ নম্বর জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যম সোনাপাহাড় গ্রামের মোস্তফা সওদাগরের বাড়িতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে।

জোরারগঞ্জ থানার ওসি নুর হোসেন মামুন বলেন, ভোর ৫টায় জরুরি সেবা নাম্বার ৯৯৯ ফোন পেয়ে আমরা মোস্তফা সওদাগরের বাড়িতে গিয়ে দেখি নৃশংসভাবে তিন জনকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে সাদেক হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে সে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। হত্যাকাণ্ডে আরো তিন জন জড়িত থাকতে পারে বলে জানা গেছে।

নিহত মো. মোস্তফার ছোট ছেলে আলতাফ হোসেন বলেন, ভোররাতে বড় ভাই সাদেক হোসেন আমাকে ফোন দিয়ে বলেন ‘বাড়িতে ডাকাত এসেছিল। বাবা, মা ও মেজো ভাইকে জবাই করে ফেলেছে। তুই তাড়াতাড়ি আয় তাদের হাসপাতালে নিতে হবে।’ আমি বাড়িতে এসে দেখি বাবা-মা আর মেজো ভাইয়ের নিথর দেহ ঘরের ভেতর পড়ে আছে।

মো. মোস্তফা ও আহমদ হোসেন জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকায় একটি মুদি দোকান চালাতেন। সাদেক হোসেন চট্টগ্রাম শহরের একটি গার্মেন্টস কারখানায় কাজ করেন। জানা গেছে, মো. মোস্তফা মিয়া তার বাড়ির জমি ও অন্যান্য সম্পত্তি মেজো ছেলে আহমদ হোসেন, মেয়ে জুলেখা (১৮) ও স্ত্রী জোস্নে আরাকে লিখে দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রায়ই সাদেক হোসেনের সঙ্গে বাবা-মা ও মেজো ভাই আহমদ হোসেনের ঝগড়া হতো। সম্প্রতি আহমদ হোসেনের বিয়ের জন্য পাত্রী ঠিক করা হয়। আগামী ২৫ অক্টোবর বিয়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। তার বিয়ের জন্য সাদেক হোসেন ও আলতাফ হোসেনের কাছে টাকা ধার চান মো. মোস্তফা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়।

নিহত মোস্তফা সওদাগরের বাড়ির ভাড়াটিয়া জাকারিয়া বলেন, বুধবার রাত প্রায় ৩টার দিকে বাড়ির মালিকের ঘর থেকে ডাকাত ডাকাত বলে আওয়াজ আসছিল। আমরা এ সময় বের হয়ে দেখি ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। মো. মোস্তফার বড় ছেলে সাদেক হোসেন বাড়ির ছাদের ওপর থেকে চিত্কার করে বলে—‘ঘরে ডাকাত ঢুকেছে। আমার বাবা, মা আর ভাইকে কুপিয়ে চলে গেছে।’ এ সময় আমরা বাড়ির চারপাশে ঘুরে কাউকে দেখতে পাইনি। পরবর্তী সময়ে সাদেক ঘরের দরজা খুলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে কাঁদতে শুরু করেন। আমরা ঘরে গিয়ে দেখি মেঝেতে তার বাবা, মা আর ভাইয়ের রক্তাক্ত লাশ পড়ে আছে।

৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মনির আহমদ ভাসানী বলেন, মো. মোস্তফা সম্প্রতি দুই ছেলেকে বাদ দিয়ে বাড়ির জমি ছোট ছেলে, মেয়ে ও স্ত্রীর নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ায় বড় ছেলের সাথে প্রায়ই তার ঝগড়া হতো।

সহকারী পুলিশ সুপার (মিরসরাই সার্কেল) লাবিব আবদুল্লাহ বলেন, এটি একটি হত্যাকাণ্ড। এখানে ডাকাতির কোনো ঘটনা ঘটেনি। ঘরের ভেতর থাকা মোবাইল, আসবাবপত্র সব পরিপাটি অবস্থায় আছে। নিহতদের শরীরে একাধিক জখমের চিহ্ন রয়েছে। ধারালো ছোরা দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে সাদেক হোসেন ওরফে সাদ্দামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আইনুর নাহারকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম থেকে আসা পিবিআই ও সিআইডির বিশেষজ্ঞ টিম ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি। তিন জনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।