ফাস্টফুডের নাম শুনলেই কার মুখে না জল আসে! বাজারে যখন সব খাবার প্রায় রেডি পাওয়া যায়, তখন গৃহিণীর তো একটু রান্না করে চেখে দেখতে মন চাইবেই। নানি-দাদির হাতের আচারের স্বাদ পান না তাতে কি, বাজারে হরেক রকমের আচারের তো অভাব নেই। কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছেন কি, এগুলো কী উপায়ে সংরক্ষণকৃত, আর তা কি স্বাস্থ্যসম্মত? আপনি চেষ্টা করলে নিজের তৈরি খাবারও সংরক্ষণ করতে পারেন ঘরোয়াভাবেই। লিখেছেন রফিকুল ইসলাম
ঘরোয়াভাবেখাবার যেমন সংরক্ষণ করা যায়, তেমনি রাসায়নিকভাবেও করতে পারেন সংরক্ষণ। তবে জেনে নিন, কোন রাসায়নিক দ্রব্য ক্ষতিকারক আর কোন রাসায়নিক দ্রব্য নিরাপদ—
ঘরোয়াভাবেই সংরক্ষণ
l কাঁচা মরিচ ফ্রিজে রাখার আগে বোটা ছাড়িয়ে নিন। অনেকদিন ভালো থাকবে।
l বেগুন, ঢেঁড়স পুরো শুকিয়ে তারপর ফ্রিজে রাখুন, এতে ফাংগাস হবে না।
l সুতির ছোট ব্যাগ বানিয়ে এর মধ্যে সবজি রাখুন। তাজা থাকবে অনেকদিন।
l ফ্রিজে সবজি-ফল আলাদা রাখুন।
l ডিম অনেকদিন সংরক্ষণ করতে হলে গায়ে সয়াবিন তেল মেখে রাখুন।
l রান্না করা খাবার গরম গরম ফ্রিজে ঢুকাবেন না, ২ ঘণ্টা বাইরে রেখে তারপর ঢুকান।
l ফ্রিজে ছিদ্রযুক্ত প্যাকেটে আঙুর রাখুন।
l ধনেপাতা প্লাস্টিকের প্যাকেটে আলাদা রাখুন, ভালো থাকবে।
l মাছ ভালো করে ধুয়ে লবণ-হলুদ মেখে ফ্রিজে রাখুন।
l মাংস ধুয়ে তারপর প্যাকেট করুন, রক্ত যেন লেগে না থাকে।
l রান্না করা খাবারগুলো ফ্রিজে ঢেকে রাখবেন।
রাসায়নিকভাবে সংরক্ষণ
এক্ষেত্রে আগেই জেনে নিন কোনটি নিরাপদ আর কোনটি বিপজ্জনক।
নিরাপদ সংরক্ষণ
l সাইট্রিক অ্যাসিড সাধারণত জুস, সিরকা, পনির সংরক্ষণে ব্যবহার করা হয়।
l ইডিটিএ কেমিক্যালটি খাবার পঁচে যাওয়া রোধ করে। সফট ড্রিংকস, মেয়োনিজ, প্রক্রিয়াজাতকৃত ফলমূল সংরক্ষণে এটি ব্যবহূত হয়।
l নন-কার্বনেটেড ড্রিংকস সংরক্ষণে হেপ্টাইল প্যারাবেন ব্যবহার করা হয়।
l বেকড ফুড, চকোলেট, আইসক্রিম তৈরিতে লেসিথিন ব্যবহার করা হয়।
l জেলি, আচার, বার্গার তৈরিতে সোডিয়াম বেনজোয়েট ব্যবহার করা হয়।
বিপজ্জনক সংরক্ষণ
l খাবার সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন রকম প্রিজার্ভেটিভ ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে সালফাইটস খুব ক্ষতিকর। বেকড ফুড, চা, ভিনেগার, দুগ্ধজাত, শস্যজাত খাবার, সস, জেলি, স্যুপ মিক্সারে এটি বেশি ব্যবহার হয়। এর ফলে শ্বাসকষ্ট, পেটব্যথা হতে পারে।
l মাংস সংরক্ষণে নাইট্রাইট ব্যবহার করা হয়। এর ফলে ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে।
l প্রোপাইল গ্যালেট ভেজিটেবল অয়েল, চিকেন স্যুপ, চিপস, বাবল গামে ব্যবহার করা হয়। এরও চূড়ান্ত পরিণতি ক্যান্সার।
