হেলালুর রহমান জুয়েল, চাটমোহর (পাবনা)
বোনা আমন ধানে শীষ বের হওয়ার আগেই বিল থেকে বর্ষার পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় চরম দুঃশ্চিন্তায় পড়েছে চাটমোহরসহ চলনবিল অঞ্চলের কৃষক।
পাবনার চাটমোহর উপজেলার বিল অধ্যুষিত পাঁচটি ইউনিয়নের হাজারো কৃষক বোনা আমন ধানের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন। এ ধান গাছগুলো প্রায় ১০ থেকে ১২ ফিট লম্বা হয়ে থাকে। সাধারণত পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ধান গাছের উচ্চতাও সমানভাবে বেড়ে থাকে। বোনা আমন ধান আবাদে সেচের প্রয়োজন হয় না। আশ্বিন মাসের মাঝামাঝি সময়ে এসে বোনা আমন ধানের শীষ বের হয়। কিন্তু এ বছর আশ্বিন মাসের শুরু থেকেই দ্রুত বিলের পানি কমতে থাকে এবং কয়েক দিনের মধ্যে ধানখেত শুকিয়ে যায়। উপজেলার হান্ডিয়াল, নিমাইচড়া, বিলচলন এবং ছাইকোলা, হরিপুর ইউনিয়ন এলাকার বিলের পানি ইতিমধ্যে প্রায় শেষ হয়ে শুকিয়ে যাওয়ায় এসব এলাকার ধানখেত শুকিয়ে গেছে।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে চাটমোহর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকায় ১ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে বোনা আমন ধানের চাষ হয়েছিল। বর্ষাকাল শুরুর দিকে প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ৮৯০ হেক্টর জমির বোনা আমন ধান নষ্ট হয়ে যাওয়া দেখে কৃষকরা কাঁচা ধান গাছ কেটে গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে। বর্ষার পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় আরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলার বরদানগর গ্রামের কৃষক রতন আলী জানান, চলতি বছর পাঁচ বিঘা জমিতে বোনা আমন ধান চাষ করেছেন। জমি চাষ, বীজ, সার, আগাছা পরিষ্কার বাবদ ইতিমধ্যে বিঘাপ্রতি ৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ধান কেটে বাড়ি আনতে বিঘাপ্রতি আরো ২ হাজার টাকা খরচ হবে। সব মিলিয়ে বিঘাপ্রতি ছয় হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। ধানের শীষ বের হওয়ার আগেই জমি শুকিয়ে গেছে। চিনাভাতকুর গ্রামের কৃষক আমজাদ হোসেন প্রাং জানান, এ এলাকার পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রিত না হওয়ায় কোনো কোনো বছর বর্ষার শুরুতে কচি ধানের চারা পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে যায় আবার কোনো কোনো বছর আশ্বিন মাসের শুরুতে পানি চলে যাওয়ায় ধান গাছ শুকিয়ে মারা যায়। বছরের পর বছর এভাবেই আমরা ঝুঁকি নিয়ে বোনা আমন ধানের চাষ করে আসছি। চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ এ মাসুমবিল্লাহ জানান, উপজেলার নিচু এলাকাগুলোতে ধলদীঘা, আজলদীঘা, জিরাশাইল, কালবোরণসহ স্থানীয় জাতের বোনা আমন ধানের চাষ হয়। অনিয়ন্ত্রিত বন্যার কারণে এ অঞ্চলের কৃষকেরা অনেক সময়ই ক্ষতির শিকার হন। তবে মাঝে মধ্যে বৃষ্টি হলে ধানের ফলন বিপর্যয় কিছুটা কমবে বলেও তিনি জানান।
